মুম্বাই-কলকাতা ঘুরে দুই বছর ধরে অডিশন, যেভাবে ‘জ্যাজ সিটি’তে শুভ
বলিউডের ‘জ্যাজ সিটি’ সিরিজে অভিনয়ের জন্য ঢাকাই সিনেমার অভিনেতা আরিফিন শুভকে দুই বছর ধরে অডিশন দিতে হয়েছে। কখনও মুম্বাইয়ে, কখনও কলকাতায়, আবার বাংলাদেশ থেকেও অডিশন নেওয়া হয়েছে এই অভিনেতার।
ভারতীয় নির্মাতা সৌমিক সেনের পরিচালনায় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘সনি লিভে’ ১৯ মার্চ থেকে দেখা যাবে সিরিজটি। ‘জ্যাজ সিটি’র প্রচারে এখন কলকাতায় আছেন শুভ।
সেখানে বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিরিজটি নিয়ে দীর্ঘ অডিশন প্রক্রিয়া, কাজের অভিজ্ঞতা এবং দুই বাংলার ভাষা-সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলেছেন শুভ।
‘জ্যাজ সিটি’ সিরিজ নিয়ে শুভর ভাষ্য, “কোনও ভারি বিষয়কে কঠিন করে দেখানো সহজ, কিন্তু সেটিকে বিনোদনের মোড়কে পরিবেশন করা কঠিন। পরিচালক সৌমিক সেন সিরিজটিতে সেটা করে দেখিয়েছেন। কৌতুক, ব্যঙ্গ ও বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপের সমন্বয় ঘটিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে পরিবেশন করেছেন, যা ভীষণই কঠিন, পরিশ্রমের কাজ।"
এই সিরিজে আরিফিন শুভর বিপরীতে কাজ করেছেন কলকাতার অভিনেত্রী সৌরসেনী মৈত্র।
সৌরসেনীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে শুভ জানিয়েছেন, আগেও তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন। এবার দৃশ্যের পরিমাণ বেশি থাকায় টানা কাজ করতে গিয়ে তাদের মধ্যে ‘ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।
"একই চরিত্রের জন্য আরও অনেকের অডিশন নেওয়া হয়েছে। একই দৃশ্য অন্যকে দিয়ে করানোর পর সেটাও আমাকেও পাঠানো হয়েছে। আমি রেকর্ড করে পাঠিয়েছি। হয়ত ভালো লেগেছে, হয়তো লাগেনি। এভাবে ‘ট্রায়াল অ্যান্ড এরর’ এর মধ্য দিয়ে আমাকে বাছাই করা হয়েছে।"
এক জ্যাজ ক্লাবের আড়ালে গড়ে ওঠা এই সিরিজের গল্পের প্রেক্ষাপট ১৯৭১ সালের কলকাতা শহর। শহরের পুরনো ঐতিহ্য আর রাজনৈতিক অস্থিরতার সংঘাতে এগিয়ে চলে কাহিনী।
সংগীত, রহস্য এবং মানসিক দ্বন্দ্বের মিশ্রণে নির্মিত 'জ্যাজ সিটি' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার তৈরি হওয়া এক প্রজন্মের গল্প, যাদের নীরবতা আর প্রতিরোধের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হয়েছিল।
জ্যাজ ক্লাব নামের এক জলসাঘরে প্রতিরাতের নাচ-গানের আসর থেকে উঠছিল বিপ্লবের ডাক, যা বদলে দিয়েছিল ইতিহাস, ভূগোল ও একটি জাতির ভবিষ্যত। সেই গল্পই দেখা যাবে সিরিজে।
১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপট ও 'বাংলাদেশি' পরিচয়ের কারণে শুভকে সিরিজে নেওয়া হয়েছিল কী না প্রশ্নে শুভ বলেন, "কাজের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেন না। সবার আগে নিজেকে বিশ্ববাসী বলতে ভালবাসি। উদাহরণ হিসাবে এই কাজটিকেই দেখুন। যেহেতু কলকাতায় অনেক দিন ধরে কাজ করছি, সেই জায়গা থেকেও আমার অডিশনের কথা ভাবা হতেই পারে। আর সিরিজের ‘জিমি রায়’ কিন্তু ভারতীয় চরিত্র। এখানে একাধিক ভাষায় অভিনয় করতে হয়েছে।"
বাংলা ভাষার চর্চা কেবল বাংলাদেশেই হয় কী না প্রশ্নে শুভ বলেন, "দুই বাংলাতেই সমানভাবে ভাষার চর্চা হয়। ১৯৪৭, ১৯৭১ সাল পেরিয়ে রাজনৈতিক এবং ভৌগোলিক কারণ পেরিয়েও বলব, বাংলাটাকে আলাদা করবেন কী করে? আপনাকে ‘কেমন আছেন’ প্রশ্ন করলে বলবেন, ‘ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?’ বাংলাকে দুই টুকরো করবেন কী করে? আমার মনে হয় না, কোনও দিকের বাঙালির কাছে বাংলা ভাষার আবেদন বিন্দুমাত্র কমেছে।"
দুই বাংলায় নিজের কাজ নিয়ে শুভ বলেন, "সময় এলে সব জানা যাবে। কলকাতা যদি আবার ডাকে, কাজ করব। যতবার ডাকবে, ততবার আসব।”
Comment / Reply From
You May Also Like
Latest News
Vote / Poll
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

