‘কোষ্টাল ক্লাইমেট ডায়ালগ’-এ বিশিষ্টজনেরা উপকূলের সংকট সমাধানে সর্বদলীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক
উপকূলের সংকট সমাধানে সর্বদলীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলের জীবন-জীবিকা ও প্রাণ-প্রকৃতি ঝুঁকিতে আছে। প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে আঘাত এই ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই ঝুঁকি মোকাবেলায় দীর্ঘ মেয়াদী সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। এ জন্য সকল রাজনৈতিক দলের একক সিদ্ধান্তে আসতে হবে।
রবিবার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম আয়োজিত ‘কোষ্টাল ক্লাইমেট ডায়ালগ’-এ এসব কথা বলেন তারা। বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে আয়োজিত ডায়ালগে সভাপতিত্ব করেন ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের সভাপতি আমিনুর রসুল। সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন মূল প্রবন্ধে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী।
আগামী বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবে উপকূল সীমাহীন সংকটে আছে। বিশাল উপকূলকে পিছিয়ে রেখে জাতীয় অগ্রগতি অসম্ভব। সরকার উপকূলের সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, উপকূলের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিএনপির ৩১দফা কর্মসূচি ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নবায়ণযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ক্ষেত্রেও কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
উপকূলের সমস্যা সমাধানে সংসদের ভিতরে বাইরে কাজ করার জন্য উপকূল বিষয়ক সংসদীয় ককাস গঠনের প্রস্তাব করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, দীর্ঘ লড়াই ও গণঅভ্যুত্থানের পর অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত বর্তমান বিএনপির সরকারের কাছে জনগণের বিপুল প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশা পুরণে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে সকল প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে উপকূলের ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে। সুন্দরবন রক্ষার কথা বলে বনের মধ্যে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ সিদ্ধান্ত নিলে তা হবে স্ববিরোধী। উপকূলের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হাসপাতাল, নাকি উড়োজাহাজ কেনা জরুরি, সেটা সরকারের নীতি-নির্ধারকদের বিবেচনা করতে হবে।
উপকূল ও জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে সর্বদলীয় একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিপিআরডি) নির্বাহী প্রধান মো. শামসুদ্দোহা। তিনি বলেন, শুধু জলবায়ু সম্মেলনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। আমাদেরও কিছু করণীয় আছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলো এই সকল জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সবসময় বিরোধী অবস্থানে থাকেন। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ন্যায্য হিস্যা আদায়ের পাশাপাশি আগামীতে রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি একক অবস্থান নির্ধারণ করতে হবে।

