৬ কোটি টাকা ঘুসে এলজিইডিতে পিডি নিয়োগ: ৬, ০০০ হাজার কোটির প্রকল্প লুটেপুটের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিনিধি
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) আবারও বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
৬ কোটি টাকা ঘুস দিয়ে 'ইমপ্রুভিং আরবান গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রোগ্রাম' (আইইউজিআইপি) প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) হিসেবে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর তোফায়েল আহমেদ নিয়োগ পেয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
৬,০০০ কোটি টাকার এই বিশাল উন্নয়ন প্রকল্পটি অল্প দিনেই লুটেপুটে খেয়ে সাবাড় করার পাঁয়তারা চলছে বলে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সম্প্রতি মোহাম্মদ আলী নামের এক ব্যক্তি কর্তৃক দাখিলকৃত অভিযোগপত্র থেকে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য জানা গেছে।
অভিযোগের মূল বিবরণ :
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সব দপ্তরে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগলেও এলজিইডিতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো আঁকড়ে ধরে আছে ফ্যাসিবাদের দোসররা। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আইইউজিআইপি প্রকল্পের পিডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এর আগেও তাকে এই প্রকল্পের পিডি করা হলে দাতা সংস্থা আপত্তি জানিয়েছিল। যার ফলে পূর্বের দক্ষ ও সফল প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল বারেককে পুনর্বহাল করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই অভিজ্ঞ এই কর্মকর্তাকে সরিয়ে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে জুনিয়র তোফায়েল আহমেদকে পদায়ন করা হয়েছে। দেশের ৮৮টি পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিতকরণের এই প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সাবেক খাদ্যমন্ত্রীর হাত ধরে বিপুল সম্পদের মালিক :
অনুসন্ধানে ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তোফায়েল আহমেদ সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও 'ডান হাত' হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
নওগাঁয় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে ৪ বছর দায়িত্ব পালনকালে সাধন চন্দ্র মজুমদারের ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেন। নিজের এবং স্ত্রী দিলরুবা হোসেনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে ঢাকা ও বিভিন্ন এলাকায় একাধিক প্লট, বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট এবং ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার বেনামি সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি।
রাস্তা নির্মাণে ভয়াবহ রড-কাস্টিং জালিয়াতি :
অভিযোগপত্রে তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ঠিকাদারি জালিয়াতির বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
দেশের ৮৮টি পৌরসভায় থ্রি-আরসিসি রোড ১২ ইঞ্চি ঢালাই এবং প্রতি ৪ ইঞ্চি পরপর রড দেওয়ার নিয়ম রয়েছে কিন্তু পিডি তোফায়েল আহমেদ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে আঁতাত করে মাত্র ৬ ইঞ্চি ঢালাই দিয়ে রাস্তা নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন।
এই জালিয়াতির বিনিময়ে তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৩০ শতাংশ (৩০%) পর্যন্ত ঘুস বা কমিশন আদায় করছেন।
এলজিইডিতে ঘুস ও বদলি বাণিজ্য তুঙ্গে :
এলজিইডির অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শুধু তোফায়েল আহমেদই নন, বিগত কয়েকদিনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এলজিইডির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ১১ জন বিতর্কিত পিডি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিনিয়রিটিকে তোয়াক্কা না করে জুনিয়রদের পদায়ন করা হচ্ছে। ঘুস ছাড়া এলজিইডিতে কোনো প্রমোশন, নিয়োগ বা পোস্টিং মিলছে না। আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা মাঠ পর্যায়ে মোটা অঙ্কের মাসোহারা দিয়ে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে, যার কারণে ত্যাগী ও মেধাবী প্রকৌশলীরা বারবার বঞ্চিত হচ্ছেন।
এই বিশাল দুর্নীতি এবং ৬ হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ও বৈদেশিক ঋণের অর্থ হরিলুট ঠেকাতে বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক জরুরি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পিডি তোফায়েল আহমেদের সাথে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলেন এগুলোর কোন কিছুই সত্য নয়।

