ডার্ক মোড
Friday, 10 July 2026
ePaper   
Logo
মৌলভীবাজারে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন:  মানুষ স্থায়িত্ব, শান্তি ও কর্মসংস্থান চায়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মৌলভীবাজারে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন: মানুষ স্থায়িত্ব, শান্তি ও কর্মসংস্থান চায়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 

শেখ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, মৌলভীবাজার

দেশের প্রকৃত মালিক এ দেশের জনগণ—এই ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণ যদি সজাগ ও সতর্ক থাকে, তবে দেশের অগ্রগতি কেউ রুখতে পারবে না।

বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ জনগণের হাতেই দৃঢ়ভাবে অর্পণ করেছেন।

বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জনগণের ভোটাধিকার এবং বাকস্বাধীনতা জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালে এ দেশের নাগরিকরা বিপুল ত্যাগ ও রক্তপাতের বিনিময়ে সেই মৌলিক অধিকারগুলো পুনরুদ্ধার করে, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের মানুষ এখন মর্যাদাশীল জীবনযাপনের জন্য মূলত শান্তি, স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান, উন্নত চিকিৎসা এবং শিক্ষার ভালো সুযোগ চায়।

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সরকার ও নাগরিক—উভয়কেই সম্মিলিতভাবে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। ২০ কোটি মানুষের এই বাংলাদেশে ৪০ কোটি হাত অলস বসে থাকলে দেশ এগোতে পারে না—এই কথা উল্লেখ করে তিনি সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। বাকস্বাধীনতা সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এখন যে কেউ মুক্তভাবে সরকারের সমালোচনা করতে পারে এবং সংবাদপত্রগুলো প্রশাসনের বিরুদ্ধে লিখতে সম্পূর্ণ স্বাধীন। এটি দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সরকারকে জনকল্যাণে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে।

সরকারের প্রাথমিক সাফল্য এবং ভবিষ্যতের উন্নয়নমূলক লক্ষ্যমাত্রার রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহের মধ্যে সরকার ১২ লাখ কৃষকের ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করতে সক্ষম হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় অন্তত ৮,০০০ সুবিধাবঞ্চিত নারীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যা পর্যায়ক্রমে ৪০ লাখ পরিবারকে এই সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনবে। একই সাথে, আগামী এক বছরের মধ্যে ৪০ লাখ কৃষককে বিশেষ ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান করা হবে। স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো নিয়ে তিনি ঘোষণা করেন যে, দেশের সকল উপজেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হবে এবং এই চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। বুধবার ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে দুস্থদের জন্য আবাসন তহবিল, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি এবং চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়।

রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের আগে বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল ছিল, কিন্তু এখন এটি দেশের সকল নাগরিকের সরকার—তারা কাকে ভোট দিয়েছেন তা এখানে বিবেচ্য নয়।

তিনি প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের অধীনে মৌলভীবাজারে সড়ক, স্কুল ও কলেজসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে বিএনপির অতীতের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

বিরোধী শিবিরের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিকভাবেই যখন দেশ এগিয়ে যায় এবং অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়, তখনই কিছু কুচক্রী মহল দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করে। তিনি সেইসব শক্তির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন যারা অতীতে বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল এবং এখন দাবি করছে বর্তমান সরকারকে একদিনের জন্যও সময় দেওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, এরা জনস্বার্থে নয়, বরং সংকীর্ণ নিজস্ব স্বার্থে কাজ করছে। জনগণ বিএনপিকে আগামী ৫ বছর দেশ পরিচালনার ম্যান্ডেট (গণরায়) দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি ১৯৭১ ও ১৯৮৬ সালে বিরোধীদের প্রশ্নবিদ্ধ রাজনৈতিক অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। একই সাথে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, গত এক দশকের তীব্র রাজনৈতিক সংগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীরাই জেল-জুলুম ও শাহাদাত বরণ করেছেন।

আর্থিক শৃঙ্খলার দিকে নজর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত সরকারগুলোর আমলে জনগণের বিপুল সম্পদ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শ্রম, কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফ উল হক চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিস ফারজানা শারমিন এমপি এবং সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু, শওকতুল ইসলাম শকু, বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য জোহরাত আদিবা চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মহিদুর রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন এবং সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনসহ অনেকে জনসভায় বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন