নরসিংদীতে ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে: মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভের সময় সংঘর্ষে আহত ১৫
নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদীর রায়পুরা থানার নাশকতার মামলার আসামী ও রায়পুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: ফারুক হোসেন আলীর জামিন নামঞ্জুর করে সোমবার কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তাকে কারাগারে পাঠানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে সমর্থকরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করার সময় সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বিএনপির ১৫ নেতাকর্মী। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে তার সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এসময় ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েকটি মোটরসাইকেল। এছাড়া রায়পুরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ভুইয়ার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আহতরা হলেন, রায়পুরা সরকারি কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন (৪২), উপজেলা যুবদল সদস্য রাসেল ভূইয়া (৩৭), উপজেলা ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম পলাশ (২৮), উপজেলা জিয়া মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক দ্বীন ইসলাম (৪০), জাহাঙ্গীর মোল্লা (৩৫), রায়পুরা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন মো. ফরিদ উদ্দিন (৫৭), পাবেল মিয়া (৩২), আসাদুজ্জামান (৪৭),;মনির সরকার (৪০), আসাদ মিয়া (৪০), মিঠু খন্দকার (৩২), আমান মিয়া (২৯) ,শাহাদাত (৩২), নোহান আহাম্মেদ (১৮) ও শাহিন (২৮)।
তাদের মধ্যে ২ জন উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি ও একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, রায়পুরা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের সমর্থক নারী-পুরুষেরা মানববন্ধন করেন। এ সময় রায়পুরা উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে গেলে তাদের সঙ্গে মানববন্ধনকারীদের বাকবিতণ্ডা হয়। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেলযোগে চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের বাড়ির দিকে গেলে সেখানে তাদের সঙ্গে চেয়ারম্যানের সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং কয়েকজনকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রায়পুরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ভুইয়া অভিযোগ করে বলেন, ফারুক চেয়ারম্যানকে আদালত কারাগারে পাঠানোর পর তার অনুসারীরা হাসিমপুর বাজারে মানববন্ধন করে। এ সময় আমরা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে ছিলাম। পরে খবর পাই আমার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়েছে। রায়পুরা সদর থেকে দলের নেতারা আসার পর তাদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের বাড়ি ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি পরিদর্শন করেছে পুলিশ ও প্রশাসন। চেয়ারম্যানের বাড়ির গেট ও ভেতরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। চেয়ারম্যানের বাড়ি অতিক্রম করার সময় লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে মোটরসাইকেলের বহরে হামলা করা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
রায়পুরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) টিএম ফরিদুল আলম বলেন, ফারুক চেয়ারম্যানকে কারাগারে পাঠানোর পর তার অনুসারীরা মানববন্ধনের চেষ্টা করে। বিষয়টি কেন্দ্র করে বিএনপির নেতারা মামুদপুর এলাকায় গেলে চেয়ারম্যানের অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সোমবার (১৭ আগস্ট) নরসিংদী আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে যান রায়পুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন আলী। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই তার মুক্তির দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

