জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বার্ষিকী অনুষ্ঠানে অপ্রীতিকর ঘটনায় নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের দুঃখ প্রকাশ, প্রবেশে নতুন নিয়ম জারি
ইউএসএ ব্যুরো
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী চলাকালে ঘটে যাওয়া এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল।
অনুষ্ঠান চলাকালে আমন্ত্রিত অতিথি নূর হোসেন প্রামাণ্যচিত্রের একটি অংশ নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক বা দুজন শ্রোতা এর বিপরীত প্রতিক্রিয়া জানান। পুরো পরিস্থিতিটি প্রায় দেড় মিনিটের মতো স্থায়ী ছিল, যার পর অনুষ্ঠানটি পুনরায় শুরু হয় এবং সুশৃঙ্খলভাবে শেষ হয়।
এ ঘটনার পর সোমবার কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনার পরপরই কনসাল জেনারেল নূর হোসেনকে কনস্যুলেটে আমন্ত্রণ জানান এবং অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার জন্য ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি পুরো ঘটনার জন্য কনস্যুলেট আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।
কনস্যুলেট জোর দিয়ে বলেছে যে, বাকস্বাধীনতা একটি সার্বজনীন ও মৌলিক অধিকার। যেকোনো মতামতের সাথে একমত বা দ্বিমত পোষণ করা স্বাভাবিক হলেও প্রত্যেকের মতামত প্রকাশের অধিকারকে শ্রদ্ধা জানানো অপরিহার্য উল্লেখ করে এই অধিকার রক্ষায় কনস্যুলেটের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
একই সাথে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক অনুষ্ঠানগুলোতে সৌহার্দ্যপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে কনস্যুলেট।
এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে কঠোর সতর্কতামূলক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীতে যেকোনো কনস্যুলেট অনুষ্ঠানে প্রবেশাধিকার কেবল বৈধ আমন্ত্রণপত্রধারী এবং অফিশিয়াল অতিথি তালিকায় নাম থাকা আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যেই কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ থাকবে।
ভবিষ্যতের অনুষ্ঠানগুলো যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও শান্তির মনোভাব নিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হয়, সে লক্ষ্যে সকল অংশীজনকে দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন ও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে নিউইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

