চাঁদা না দেওয়ায় অপপ্রচারের অভিযোগ রূপগঞ্জের ইউএনওর, দুর্নীতির দাবি প্রত্যাখ্যান
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
দাবিকৃত ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম জয়। আজ মঙ্গলবার রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। ইউএনও বলেন, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজেই চাঁদাবাজির চেষ্টার শিকার হয়েছেন এবং এর প্রতিকারে তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল ইসলাম জয় জানান, শাহীন আলম নামের এক ব্যক্তি ও তাঁর এক সহযোগী কিছুদিন আগে কক্সবাজার ভ্রমণের জন্য হোটেলের বুকিং এবং বিমানের টিকিট কেটে দেওয়ার জন্য তাঁর কাছে অনৈতিক দাবি জানান। সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করার পর তাঁরা সরাসরি ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেনস্তা ও মানহানি করার হুমকি দেওয়া হয়। ইউএনও আরও জানান, অভিযুক্ত এই চক্রটির বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
ইউএনও বলেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ওই চক্রটি সরকারের ১ শতাংশ বরাদ্দ তহবিলের অধীন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি দাবি করেন।
দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সাইফুল ইসলাম জয় ব্যাখ্যা দেন, এই ১ শতাংশ বরাদ্দের টাকা ব্যয়ের একক এখতিয়ার ইউএনওর হাতে থাকে না। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরাই এই তহবিলের প্রকল্পগুলো মূলত বাস্তবায়ন করে থাকেন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু এই বরাদ্দের আওতাধীন উন্নয়ন প্রকল্পগুলো জনসাধারণের সামনে প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেছিলেন। ফলে এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা সরকারি অর্থ অপচয়ের কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

