কোস্ট গার্ডের অভিযান: রামগতিতে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও ৮ লাখ টাকাসহ কুখ্যাত ডাকাত আজিম ও দুই সহযোগী আটক
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে মেঘনা নদী অববাহিকায় এক বড় ধরনের অপরাধবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে এক কুখ্যাত জলদস্যু নেতা ও তার দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। অভিযানকালে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাটি ১টি একনলা বন্দুক, ৩ রাউন্ড তাজা গুলি এবং নগদ ৮,০০,০০০ টাকা উদ্ধার করেছে।
শনিবার (৬ জুন, ২০২৬) বিকেলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, জলদস্যুদের জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড স্টেশন রামগতির একটি বিশেষ দল রাতভর ১১ ঘণ্টার এক নিবিড় অভিযান পরিচালনা করে। শুক্রবার রাত ৮টা থেকে শুরু হয়ে শনিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত রামগতির অধীনস্থ জনতা বাজার সংলগ্ন মেঘনা নদী এলাকায় এই অভিযান চলে। তল্লাশির প্রাথমিক পর্যায়ে দলটি কুখ্যাত জলদস্যু সম্রাট আজিম বেপারী ও তার দুই সহযোগীকে ঘেরাও করে আটকে সমর্থ হয়।
পরবর্তীতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর আটককৃত অপরাধীরা নদীর তীরে অবস্থিত তাদের গোপন আস্তানার সন্ধান দেয়। এই তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ডের দলটি ওই ডেরায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক, ৩টি তাজা কার্তুজ এবং লুণ্ঠিত নগদ ৮ লাখ টাকা উদ্ধার করে।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন—দস্যু দলের মূল হোতা মো. আজিম বেপারী (৩২), মো. বশির (৪০) এবং রাব্বি (১৬)। তারা সবাই লক্ষ্মীপুরের রামগতি থানা এলাকার বিভিন্ন ব্লকের বাসিন্দা।
কোস্ট গার্ডের রেকর্ড অনুযায়ী, আজিম বেপারী একজন পেশাদার ও চিহ্নিত অপরাধী, যার বিরুদ্ধে দীর্ঘ অপরাধের ইতিহাস রয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কোস্ট গার্ডের অনুরূপ একটি অভিযানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ সে গ্রেপ্তার হয়েছিল। বর্তমানে বিভিন্ন স্থানীয় থানায় তার বিরুদ্ধে ডাকাতি ও জলদস্যুতাসহ একাধিক সক্রিয় অপরাধমূলক মামলা রয়েছে।
বাধ্যতামূলক আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে জব্দকৃত আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা গোলাবারুদ ও উদ্ধারকৃত টাকাসহ আটককৃত আসামিদের স্থানীয় থানায় হস্তান্তরের কাজ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা আরও জানান, দেশের উপকূলীয় ও নদী অববাহিকায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইনশৃঙ্খলার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জলদস্যু নেটওয়ার্ক ও সশস্ত্র চক্রগুলোর বিরুদ্ধে এই ধরনের কঠোর অভিযান নিয়মতান্ত্রিকভাবে অব্যাহত থাকবে।

