ডার্ক মোড
Sunday, 04 October 2026
ePaper   
Logo
আমের মৌসুম শেষ হলেও সাপাহারে এখনো মিলছে  বারোমাসি জাত কাটিমন সুস্বাদু আম 

আমের মৌসুম শেষ হলেও সাপাহারে এখনো মিলছে  বারোমাসি জাত কাটিমন সুস্বাদু আম 

জাহাঙ্গীর আলম মানিক, সাপাহার (নওগাঁ)
গ্রীষ্মের আমের মৌসুম শেষ হলেও নওগাঁর সাপাহার ও পোরশায় এখনো মিলছে গাছ পাকা আম। ‘কাটিমন’ জাতের আমের কারণে অফ-সিজনেও জমজমাট হয়ে উঠেছে আমের বাজার। ভালো দাম পাওয়ায় খুশি চাষিরা। পাশাপাশি বছরজুড়ে তৈরি হচ্ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ, যা স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
চাষিরা জানান, সঠিক সময়ে সার, কীটনাশক প্রয়োগ ও নিয়মিত পরিচর্যা করলে কাটিমন গাছে অফ-সিজনেও ফলন পাওয়া যায়। অন্য সময়ের তুলনায় এ সময়ে আমের দাম বেশি থাকায় লাভও তুলনামূলক বেশি। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে এ আম।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৫৫ হেক্টর জমিতে কাটিমন আমের চাষ হয়েছে। গত বছর এ পরিমাণ ছিল ১৯০ হেক্টর। এর মধ্যে শুধু সাপাহার উপজেলাতেই ১৫০ হেক্টর জমিতে কাটিমন চাষ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি ১২ থেকে ১৫ টন ফলন ধরে চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ৬০ থেকে ৩ হাজার ৮২৫ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি কাটিমন আম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাইকারি বাজারে প্রতি মণ ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে, চলতি মৌসুমে প্রায় ৫৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকার কাটিমন আম বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) রেজাউল করিম বলেন, আধুনিক জাত ‘কাটিমন’ ও কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার ফলে আম শুধু গ্রীষ্মকালেই উৎপাদন হবে—এ ধারণা বদলে যাচ্ছে। অফ-সিজন আম চাষে কৃষি বিভাগ প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন