সরকার বদলাতেই খুলল দিল্লির ভাণ্ডার: বাংলায় ২৭০০ কোটির জল জীবন মিশন ফান্ড
লুতুব আলি
নতুন সরকারের যাত্রা শুরুর আগেই সুখবর পেল পশ্চিমবঙ্গ। দু’বছর ধরে আটকে থাকা জল জীবন মিশনের ২৭০০ কোটি টাকা ছাড়ার কথা জানিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় নবান্নে চিঠি পাঠাল কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রক। শনিবার ব্রিগেডে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণের ঠিক আগেই এই ‘ওয়েলকাম গিফট’ রাজ্য প্রশাসনের হাতে এসে পৌঁছাল।
নবান্ন সূত্রে খবর, কেন্দ্র-রাজ্য মউ স্বাক্ষর হলেই সঙ্গে সঙ্গে ২৭০০ কোটি টাকা রাজ্যের কোষাগারে জমা পড়বে। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে নলের মাধ্যমে নিরাপদ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জল জীবন মিশন চালু করেন। ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬ সালের গোড়া পর্যন্ত দেশের ১৫.৮ কোটিরও বেশি, অর্থাৎ ৮১.৮৭ শতাংশ গ্রামীণ বাড়িতে নলের জল পৌঁছেছে।
কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে গত দু’বছর ধরে এই প্রকল্পের কাজ কার্যত থমকে ছিল। কারণ, আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার মউ-এর শর্ত মানতে রাজি হয়নি। ফলে কেন্দ্রের তরফে ২৭০০ কোটি টাকা আটকে ছিল। *সম্প্রতি কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সচিব ভি এল কান্থা রাও-এর সঙ্গে রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের সচিবের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেই জট কাটে।* বৈঠকে রাজ্য সরকারের তরফে জল জীবন মিশনের অগ্রগতি, কত বাড়িতে নলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং কত টাকা বকেয়া রয়েছে তার বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করা হয়। কেন্দ্র আগের বরাদ্দের ব্যবহার এবং বর্তমান কভারেজের হালনাগাদ তথ্য চেয়েছিল। রিপোর্ট পর্যালোচনার পর কেন্দ্র মউ সইয়ের দিকে এগোয়। রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি মউ-এর সমস্ত শর্ত মেনে চলার লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। তারপরই কেন্দ্র টাকা ছাড়ার সবুজ সংকেত দেয়।
এই ২৭০০ কোটি টাকা রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় পানীয় জলের সংকট মেটাতে বড় ভূমিকা নেবে। বিশেষ করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামের মতো খরা প্রবণ জেলার লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন। বাড়ি বাড়ি নলের জল পৌঁছলে মা-বোনেদের কাঁখে কলসি নিয়ে মাইলের পর মাইল হাঁটার কষ্টও ঘুচবে। গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পের কাজ নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে একাধিকবার মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। তৃণমূল সরকারের অভিযোগ ছিল, কেন্দ্র রাজনৈতিক কারণেই টাকা আটকে রেখেছে। অন্য দিকে কেন্দ্রের দাবি ছিল, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং হিসাব সংক্রান্ত একাধিক জটিলতার কারণেই বরাদ্দে বিলম্ব হয়েছে।
একইসঙ্গে নবান্নে শুরু হয়েছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালুর তোড়জোড়। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে শুক্রবার। কীভাবে রাজ্যে এই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু হবে এবং উপভোক্তাদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠকও সেরে ফেলেছে রাজ্য।
নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত চালুর প্রস্তাব পাশ হওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্বাচনী সভায় ঘোষণা করেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রথম ক্যাবিনেটেই আয়ুষ্মান ভারত চালু হবে। সব মিলিয়ে শপথের আগেই ২৭০০ কোটির জল প্রকল্প এবং স্বাস্থ্যবিমা চালুর প্রস্তুতি - ডবল ইঞ্জিন সরকারের যাত্রা শুরু হল জোড়া সুখবর দিয়ে।

