রেকর্ড ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ সংখ্যক ৩৮৪ জন ন্যাচারালাইজড নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের
হেমায়েত হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে
যুক্তরাষ্ট্রে আবেদনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া ৩৮৪ জন বিদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
এই লক্ষ্যে ডিন্যাচারালাইজেশন মামলাগুলো ওয়াশিংটনের বিশেষজ্ঞ দলের পরিবর্তে দেশজুড়ে ৩৯টি স্থানীয় ইউএস অ্যাটর্নি অফিসের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এতে নাগরিকত্ব হারানোর ঘটনা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যেতে পারে।
জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের সূত্র জানায় , ৩৮৪ জন ন্যাচারালাইজড নাগরিককে চিহ্নিত করেছে যাদের নাগরিকত্ব বাতিল করতে চায়।
গত সপ্তাহে বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সহকর্মীদের জানান, শিগগিরই এসব মামলা ৩৯টি ইউএস অ্যাটর্নি অফিসের সিভিল লিটিগেটরদের কাছে পাঠানো হবে।
এত দিন ডিন্যাচারালাইজেশন মামলাগুলো ওয়াশিংটনের ছোট একটি ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ দল দেখভাল করত।
স্থানীয় প্রসিকিউটরদের হাতে দায়িত্ব দেওয়ায় মামলার সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র বলেন, তারা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ থেকে "ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক ডিন্যাচারালাইজেশন রেফারেল" পাচ্ছেন। তার দাবি, "ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করা অপরাধীদের নির্মূল করতে বিভাগ লেজার ফোকাসড"।
মার্কিন আইন অনুযায়ী, জালিয়াতির মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেলে তা বাতিল করা যায়। যেমন অপরাধের ইতিহাস গোপন করা, ভুয়া বিয়েতে জড়ানো বা ন্যাচারালাইজেশনের কাগজে মিথ্যা তথ্য দেওয়া। এ ছাড়া নাগরিক হওয়ার পর গুরুতর কিছু অপরাধ করলেও ডিন্যাচারালাইজেশন হতে পারে। তবে এ জন্য শক্ত প্রমাণ লাগে এবং সিভিল বা ক্রিমিনাল কোর্টের মাধ্যমে যেতে হয়।
উল্লেখ্য, এটি জন্মসূত্রে পাওয়া নাগরিকত্ব বাতিলের ঘটনা নয়। চতুর্দশ সংশোধনী অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলে সাধারণত নাগরিকত্ব মেলে।
বর্তমান উদ্যোগের আওতায় থাকা ৩৮৪ জন সবাই ন্যাচারালাইজড সিটিজেন, অর্থাৎ তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জন্ম নিয়ে পরে আবেদনের মাধ্যমে নাগরিক হয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন আগে থেকেই ইমিগ্রেশন নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে এত বড় পরিসরে স্থানীয় প্রসিকিউটরদের হাতে ডিন্যাচারালাইজেশন মামলা তুলে দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন।
অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত জালিয়াতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হলেও প্রক্রিয়া বিকেন্দ্রীকরণ হলে বৈধ নাগরিকরাও হয়রানির শিকার হতে পারেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ডিন্যাচারালাইজেশনের ঘটনা বিরল ছিল। ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে মাত্র ১১টি মামলা হয়েছে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এ সংখ্যা বাড়লেও এখনকার উদ্যোগ তার চেয়েও বড় পরিসরের।
তবে এদের মধ্যে কোন বাংলাদেশী আছে কিনা তা জানা যায়নি।
অন্যদিকে ট্রাম্পের আমলে ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস ইনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্তৃক অভিযানে বাংলাদেশীসহ বিপুল সংখ্যক ইমিগ্রান্টকে আটক করে দেশে পাঠানো হয়েছে । এখনো অভিযান চলছে এবং অবৈধভাবে বসবাসকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরই মধ্যে এ ধরনের বড় ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এত বেশি সংখ্যক ন্যাচারালাইজড সিটিজেনশিপ বাতিলের প্রক্রিয়া এটাই প্রথম।

