
রাজাপুরে ধর্ষণ চেষ্টার মিথ্যা অভিযোগে যুবককে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা
রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি
ঝালকাঠির রাজাপুরে ধর্ষণ চেষ্টার মিথ্যা অভিযোগে ইব্রাহিম আল হাদি (২৫) নামে এক যুবককে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগ উঠেছে তারই আপন চাচাতো বোন সুমাইয়া আক্তার ফারজানার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) সকালে সংবাদকর্মীদের কাছে ইব্রাহিম আল হাদি অভিযোগ করে জানান।
ইব্রাহিম বলেন, কিছুদিন আগে আমার মেঝ চাঁচিকে ঝাড়ু দিয়ে পিটিয়ে আঘাত করে। তখন আমি ঢাকায় ছিলাম এটা শুনে ওর নাম্বার কল দিয়ে বকাবকি করিলে ওর সাথে রাগারাগি হয় তারই জেরধরে বাড়িতে এসে রাস্তা দিয়ে বাজার নিয়ে যাওয়ার সময় ফারজানা ইচ্ছাকৃত ভাবেই ঝাড়ু পায়ে লাগিয়ে দেয়। এটার ওর বাবা (আমার বড় চাচার) কাছে বিচার দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ঝাড়ু দিয়ে আমাকে পিটিয়ে আঘাত করে এরপর আমি ওরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলে ব্রীজের উপরে পরে আঘাত পেয়ে আহত হলে লোকজন এসে দুজনকে সরিয়ে দেয়।
ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার ২০ ফেব্রুয়ারী উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের বামনখান এলাকায় ঘটে। অভিযুক্ত ফারজানা (২৭) ওই এলাকার শহিদুল ইসলাম বাশারের মেয়ে। স্থানীয় ছকিনা বেগম, মেয়ের আপন ছোট চাচা হুমায়ুন কবিরসহ একাধিক ব্যাক্তিরা বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ফারুক হোসেন এর ছেলে ইব্রাহিম বাজার নিয়ে বাড়িতে আসার পথে রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার সময় ইব্রাহিমের পায়ে ঝাড়ু উঠিয়ে দেয় সুমাইয়া আক্তার ফারজানা। এটা ফারজানার বাবাকে ইব্রাহিম বলায় ক্ষিপ্ত হয়ে ঝাড়ু দিয়ে ইব্রাহিমকে আঘাত করে ফারজানা এরপর দুজনের মধ্যে মারামারি হাতাহাতির ঘটনা ঘটে একপর্যায়ে ইব্রাহিম ফারজানাকে ধাক্কা দিলে ব্রিজের ওপর পরে মাথায় আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত জখম হয়। এরপর ফারজানাকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে ঝালকাঠি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ভর্তি দেন। তবে কোন ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটেনি এগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথা।
এবিষয়ে ফারজানার বাবা শহিদুল ইসলাম বাশার বলেন, আমার মেয়ে রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার সময় ইব্রাহিমের পায়ে ঝাড়ু লাগে সেটা আমার কাছে নালিশ করায় মেয়ের হয়ে আমি তার কাছে ক্ষমা চাই। এরপর দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে ইব্রাহিম লাঠি দিয়ে ফারজানার শরীরে আঘাত করলে মাটিতে লুটিয়ে পরে রক্তক্ষরণ হয়। এরপর এলাকাবাসী উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। ধর্ষণ চেষ্টার বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানান।
এ বিষয়ে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, এঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।