যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘অসম’ বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি বাম দলগুলোর
মাইজদী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘অসম’ ও ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (এআরটি) অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল ও বামপন্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। মঙ্গলবার বিকেলে মাইজদী প্রেস ক্লাবে ‘সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিনিধি সভায় সংগঠনের নেতারা এই দাবি জানান। সভায় চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা না দেওয়ার এবং তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি করপোরেট কোম্পানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নোয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি শহীদ উদ্দিন বাবুলের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জোটের নেতারা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁরা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই ১৫ বছর মেয়াদি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তিটি স্বাক্ষর করা হয়। নেতাদের যুক্তি, একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সাংবিধানিক ও নৈতিক এখতিয়ার কেবল রুটিন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন এবং জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারকে দায়বদ্ধ করে এমন কোনো দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরের অধিকার তাদের নেই।
বক্তারা উল্লেখ করেন, শুরুর দিকে এই চুক্তিতে কেবল পারস্পরিক শুল্ক হ্রাসের বিষয়ে আলোচনার কথা বলা হলেও চূড়ান্ত শর্তাবলীতে এমন কিছু একতরফা ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি, কৃষি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাসদের কেন্দ্রীয় সেকেরেটারিয়েট সদস্য নিখিল দাস, বাসদ (মাহবুব)-এর কেন্দ্রীয় সদস্য মহিনউদ্দিন চৌধুরী লিটন, সাম্যবাদী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য মনজুর আলম মিঠু, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুকান্ত শফি কামাল এবং বাসদ (মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় পরিচালনা ফোরামের সদস্য বিতুল তালুকদার। এ ছাড়া স্থানীয় সংগঠকদের মধ্যে তারকেশ্বর দেবনাথ নান্টু, আনোয়ারুল হক এবং তপন ঘোষ সভায় বক্তব্য দেন।
আন্দোলনের ধারাবাহিক কর্মসূচি তুলে ধরে বাসদ নেতা মহিনউদ্দিন চৌধুরী লিটন জানান, এই চুক্তির ঝুঁকিগুলো বিস্তারিত উল্লেখ করে জোটের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ঢাকায় জাতীয় সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। পাশাপাশি স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি প্রদান এবং দেশের ৩০০ সংসদ সদস্যের কাছে খোলা চিঠি পাঠানো হয়েছে। জোটের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি অবিলম্বে এই চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা না করে এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার না দেয়, তবে আগামী দিনে তারা সারা দেশে তীব্র আন্দোলন ও গণসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।

