ডার্ক মোড
Monday, 29 June 2026
ePaper   
Logo
নওগাঁর মান্দায় বালির পরিবর্তে ভরাট মাটি ও নিম্ন মানের খোয়া দিয়ে রাস্তা নির্মাণের নানা অভিযোগ

নওগাঁর মান্দায় বালির পরিবর্তে ভরাট মাটি ও নিম্ন মানের খোয়া দিয়ে রাস্তা নির্মাণের নানা অভিযোগ

এম রেজাউল ইসলাম, নওগাঁ

নওগাঁর মান্দায় রাস্তা পাকা করণ কাজে নিম্নমানের ইট খোয়া এবং ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালির পরিবর্তে ভরাট মাটি ব্যবহারসহ নানা অনিময়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের আবিদ্ধ পাড়া হতে পারসিমুলিয়া পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ কাজে এ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণের দায়িত্ব নিয়েছেন মেসার্স জুবায়ের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড সাপ্লায়ার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আশরাফুল ইসলাম।
সরিজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণবিধি উপেক্ষা করে পাশের ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিনে কাদামিশ্রিত মাটি ও বালু এনে ভরাট এবং প্রয়োজনীয় কম্পেকশন ও রোলিং ছাড়াই সাববেজ নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসী বলেন, নিম্নমানের বালি খোয়া ভরাট মাটি ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণ করলে খুব বেশিদিন রাস্তাটি টেকসই হবে না বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, সড়ক নির্মাণের শুরুতেই প্রকৌশলগত নিয়ম অনুসারে বক্স কাটিংয়ের পর কম্পেকশন সম্পন্ন করে এরপর অনুমোদিত মানের বালু দিয়ে ফিলিং করে পুনরায় রোলিং শেষে সাববেজ নির্মাণের বিধান রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসব ধাপ অনুসরণ না করে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাশের জমি থেকে কাদাযুক্ত মাটি উত্তোলন করে আইস ফিলিং দেয়। পরে সেই স্তর যথাযথভাবে রোলিং না করেই সাববেজ নির্মাণ শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, সাববেজ নির্মাণেও নির্ধারিত মান বজায় রাখা হয়নি। নির্মাণনীতিমালা অনুযায়ী সাববেজে বালু ও খোয়ার অনুপাত (রেশিও) ৫০:৫০ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে সেখানে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং অনুপাতের ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও প্রকৌশলগত নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে সড়কটি নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই এর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, রাস্তার কাজ শুরু থেকেই নিয়ম না মেনে করা হচ্ছে। কাদাযুক্ত মাটি দিয়ে ভরাট করে তার ওপর সাববেজ দেওয়া হয়েছে। এভাবে নির্মাণ করলে বর্ষা মৌসুমেই রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে কাজ বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জুবায়ের ইলেকট্রনিক্স এন্ড সাপ্লায়ার এর স্বত্বাধিকারী আশরাফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে কোথাও ভালো বালি পাওয়া যাচ্ছে না যার কারণে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে রাস্তায় বালি-ভরাট দিয়েছি। ইট এবং বালি সবই ভালো ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মান্দা উপজেলা শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, বালি না পাওয়ায় ড্রেজার বসিয়ে ভরাট দেওয়া হয়েছে। তবে বালি এবং কম্প্রেশন সবই ঠিক আছে কোন সমস্যা নেই। রোলার এর প্রয়োজন হয়নি সেজন্য রোলার করা হয়নি।

অপরদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর মান্দা উপজেলা শাখা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের জানান, বিষয়টা আমার জানা ছিল না আপনাদের মাধ্যমে জানলাম আর এ ধরনের কাজ করার কোন সুযোগ নেই তদন্ত করে প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন