ডার্ক মোড
Sunday, 21 June 2026
ePaper   
Logo
বেতাগীতে দূলর্ভ হয়ে উঠেছে দেশীয় জাতের চালতা ফল

বেতাগীতে দূলর্ভ হয়ে উঠেছে দেশীয় জাতের চালতা ফল

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি

উপকূলীয় বরগুনার বেতাগী উপজেলার গ্রামীণ জনপদ থেকে কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় জাতের পুষ্টি গুনসমৃদ্ধ ফল চালতা ও চালতা ফুল। ফলে অপরূপ, নয়নাভিরাম দৃষ্টিনন্দন ফুল ও বহুবিধ ভেষজ ঔষধিগুনসম্পন্ন ফল। চালতা চাষেও আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়া যেতে পারে। কিন্ত চালতা মেলানো দিন দিন এখানকার বাসিন্দাদের মাঝে এখন দুস্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে।

জানাগেছে, চালতা ফুলের বিকাশ ও পরিপূর্ণতা বড়ই বৈচিত্রময়। বর্ষা ঋতু আষাঢ় ও শ্রাবণে চালতা ফুল ফুটে। ফুল বেশ বড় হয়, প্রায় পাঁচ ইঞ্চির ব্যাসের। সুগন্ধীযুক্ত এই ফুলে পাঁচটি মোটা পাপড়ি থাকে। এই পাপড়িগুলোকে আঁকড়ে ধরে রেখে ফলে রূপান্তরিত হয়। এ ফুল সাদা রঙের।

এই ফুলের ব্যাস ১৫ থেকে ১৮ সেন্টিমিটার। ফুলে পাঁচটি মোটা পাপড়ি থাকে। ফোটার পর ফুলে মৌমাছির আগমন ঘটে। মৌমাছিরা মধু আহরণ করতে গিয়ে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে বসে। এভাবেই চালতার পরাগায়ন ঘটে এবং ধীরে ধীরে সেটি একটি পরিপূর্ণ ফলে পরিণত হয়। এ বিষয় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত¡ বিভাগের অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসু বলেন,' চালতা ফুল থেকে দ্রুত ফলে পরিণত হয়। এর ফুল দু-এক দিনের বেশি স্থায়ী হয় না। প্রভাতে পাপড়ি মেলে আর সন্ধ্যায় ঝরে। বেলা বাড়ার সঙ্গে রঙে পরিবর্তন আসে।

স্থানীয়রা জানায়, এ উপজেলায় এক সময় দেশীয় জাতের ফল চালতার ব্যাপক ফলন ছিল। বিভিন্ন বাগানে পাকা চালতা গাছ থেকে পরার ভয়ে এবং চালতা বাগানের ভেতরে পরে থাকায় হাঁটা মুশকীল হয়ে যেত কিন্ত চিত্র এখন আর চোখে পরেনা। একটি চালতা ফলের গাছে বছরে একবারই ফল ধরে। প্রতিটি চালতা ফল স্বাভাবিকভাবে ২৫০ থেকে প্রায় ৫০০ গ্রাম ওজন হয়ে থাকে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, একটি চালতা গাছ উচ্চতায় প্রায় ২০ মিটার পর্যন্ত হয়। শাখা-প্রশাখা অবিন্যস্ত ও প্রসারিত। সবুজ পাতা খাঁজকাটা ধরনের। ফলনভেদে একটি চালতা গাছে ৫ হাজার পর্যন্ত চালতা হতে পারে। বাজারগুলোতে সাধারনত: একটি চালতা ৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: ইকবাল হোসেন বলেন, এখানকার মাটি দেশীয় জাতের ফল চালতা চাষের উপযোগী। চালতা চাষে আর্থিকভাবেও অধিক লাভবান হওয়া যায়। কেউ আগ্রহী হলে নার্সারী থেকে তাদের গাছ সংগ্রহ করে রোপন করা যেতে পারে।

কচি চালতার রস চিনি ও পানিসহ শরবত করে খেলে জ্বরের প্রকোপ কমে এবং কাশির উপশম হয়। চালতার শরবত সুস্বাদু। চালতার আচার, চাটনি, জেলি খুবই মুখরোচক। বিভিন্ন প্রকার ব্যঞ্জনে বিশেষত চিংড়ি সহযোগে টক রন্ধনের জন্য চালতা বেশ উপযোগী। এ ছাড়া ফল শুষ্ক ও গুঁড়ো করে অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যে মসলা হিসেবে ও স্বাদবর্ধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ বিষয় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে খাদ্য ও পুষ্টিতত্ত¡ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুজন মালী বলেন,' খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম চালতায় আছে আমিষ ০.৮ গ্রাম, শ্বেতসার ১৩.৪ গ্রাম, চর্বি ০.২ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৬ মিলিগ্রাম ও খাদ্যশক্তি ৫৯ কিলোক্যালরি রয়েছে।'

বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে´ের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: রবীন্দ্র নাথ সরকার জানায়, চালতা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ভিটামিন 'এ, 'বি' ও 'সি'-এর ভালো উৎস। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন 'সি' থাকায় এই ফল স্কার্ভি ও লিভারের রোগ প্রতিরোধ করে। চালতায় রয়েছে বিশেষ ধরনের কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা জরায়ূ ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করে। চালতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ যা বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। চালতা পেটের নানা অসুখ প্রতিরোধে সহায়তা করে। 

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সুহৃদ সালেহীন বলেন, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য দেশীয় জাতের পুষ্টি গুনসমৃদ্ধ ফল চালতা চাষে এগিয়ে আসা উচিত। আগ্রহীদেরজন্য সহযোগিতার হাত প্রসারিত থাকবে।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন