বিএসএমএমইউ-এর প্রিজন সেলে মৃত্যুর সাথে লড়ছেন কারাবন্দী সাংবাদিক আজহার আলী সরকার
স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা: গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের প্রিজন সেলে জীবনের শেষ দিনগুলোর সাথে লড়াই করছেন প্রবীণ সাংবাদিক আজহার আলী সরকার (৫৭)। শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে গত ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে তাঁকে কারাগার থেকে হাসপাতালের প্রিজন সেলে স্থানান্তর করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপকদের সমন্বয়ে গঠিত দুটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড ইতিমধ্যে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। মেডিকেল বোর্ডের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাংবাদিক আজহার সরকার লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা এবং অ্যাজমা বা হাঁপানিজনিত তীব্র শ্বাসকষ্টসহ একাধিক জীবনঘাতী রোগে ভুগছেন। তাঁর পরিবারের দাবি, দীর্ঘ কারাবাসের সময় তাঁর এই দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলোর বেশ কয়েকটি দেখা দেয় এবং বর্তমানে তা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও সংকটাপন্ন বলে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, তাঁর জীবন বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে অন্তত দুটি বড় ধরনের অস্ত্রোপচার (সার্জারি) করা প্রয়োজন। তীব্র রক্তস্বল্পতা দূর করতে তাঁকে ইতিমধ্যে ৬ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে, তবে শরীরে রক্তের মাত্রা স্বাভাবিক রাখা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজহার সরকারের রক্তের গ্রুপ এবি-পজিটিভ (AB+)। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর হিমোগ্লোবিন এবং প্লাটিলেটের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে রয়েছে, যা অস্ত্রোপচারের সময় এবং পরে অনিয়ন্ত্রিত রক্তপাতের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ‘এন্ডোস্কোপিক ভ্যারিসিয়াল লাইগেশন’ (EVL) প্রক্রিয়া শেষ করার পরপরই কিডনি সংক্রান্ত জরুরি অস্ত্রোপচার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা দরকার। এ পর্যন্ত এক্স-রে ও সিটি স্ক্যানসহ শতাধিক ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও তাঁর অবনতিশীল পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের জন্য চিকিৎসকরা এখন তৃতীয় আরেকটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৮ মে, ২ জুন এবং ৮ জুন—এই তিন দফায় মেডিকেল টিম তাঁর অস্ত্রোপচারের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও প্রতিবারই রোগী শারীরিকভাবে অনুপযুক্ত থাকায় অস্ত্রোপচার স্থগিত করতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা।
বর্তমানে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের অধীনে একজন বিচারাধীন বন্দী (বন্দী নং- ৮৮৫৫/২৬) হিসেবে চিকিৎসাধীন থাকা আজহার সরকারকে তাঁর পরিবারের দাবি অনুযায়ী—গত ১০ অক্টোবর, ২০২৫ সন্ধ্যায় ডিবির (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) একটি দল বনশ্রীর বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরদিন রমনা মডেল থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে সাংবাদিক আজহার সরকার আদালতের কাছে শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট বলে দাবি করে আসছেন।
এমন চরম মানবিক ও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আজহার সরকারের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তাঁর স্ত্রী, দুই সন্তান এবং পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে পরিবার দেশবাসীর কাছে তাঁর দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

