বরিশালে পৈতৃক জমি বিরোধের জেরে বৃদ্ধ ও কন্যার ওপর বর্বরোচিত হামলা: এয়ারপোর্ট থানায় মামলা দায়ের
মাসুদ রানা,বরিশাল
বরিশালের এয়ারপোর্ট থানাধীন রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নে পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধ ও তার পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা রামদা দিয়ে কুপিয়ে এক নারীর মাথা গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেছে এবং বৃদ্ধকে পিটিয়ে আহত করেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটির পক্ষ থেকে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে আনুমানিক সন্ধ্যা ৬ ঘটিকার সময় রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের উত্তর কড়াপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শাহজাহান সরদার (৭৫) তার পৈতৃক সম্পত্তিতে বিবাদীদের বেআইনিভাবে গাছ রোপণ করতে নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একই বাড়ির বিবাদী মোঃ কবির হাওলাদার (৪০), মোঃ নাহিদ সরদার (১৯), মোঃ নাফিজ সরদার (১৯), মোঃ গোবিন্দ শাহজাহান হাওলাদার (৬০), মোঃ শহিদ হাওলাদার (৩৮) ও মোঃ নীরব হাওলাদার (১৮) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনি জনতাবদ্ধে বৃদ্ধ শাহজাহান সরদারের ওপর চড়াও হয় এবং তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখম করে।
এ সময় স্বামীর চিৎকার শুনে স্ত্রী মোসাঃ হাজেরা বেগম (৫৯) এবং মেয়ে মোসাঃ পারভীন বেগম (৩৫) ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। মেয়ে পারভীন বেগম হামলাকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ১নং বিবাদী মোঃ কবির হাওলাদার উত্তেজিত হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার হাতে থাকা ধারালো রামদা দিয়ে পারভীন বেগমের মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারে। কোপটি মাথার উপরিভাগে লেগে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, পারভীন বেগম মাটিতে পড়ে গেলে অন্য বিবাদীরা তাকে টানা হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং তার গলায় থাকা আনুমানিক ৪০,০০০ টাকা মূল্যের ৭ আনা ওজনের সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া বিবাদীরা ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে ১২,৫০০ টাকা মূল্যের একটি ভিভো (VIVO) স্মার্টফোন লুটে নেয় এবং বসতঘর ভাঙচুর করে প্রায় ৩০,০০০ টাকার ক্ষতিসাধন করে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয়-স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-এ-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর মোসাঃ হাজেরা বেগম বাদী হয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটনের এয়ারপোর্ট থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেন। থানা কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি আমলে নিয়ে দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৩৭৯/৪২৭/৫০৬(২) ধারায় মামলা রুজু করেছে।
এয়ারপোর্ট থানার রেকর্ডিং কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মোঃ মিজানুর রহমান জানান, কম্পিউটার টাইপকৃত এজাহার প্রাপ্তির পর তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সাব-ইন্সপেক্টর আব্দুল জলিলকে। পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

