পিরোজপুরে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও মাদকবিরোধী কর্মসূচির উদ্বোধন
জুবায়ের, পিরোজপুর
পরিবেশ রক্ষা এবং ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও হামসহ মশা-মাছি বাহিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব রোধের লক্ষ্যে পিরোজপুরে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও মাদকবিরোধী অভিযান-২০২৬ শুরু হয়েছে। রবিবার সকালে পিরোজপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে এই সমন্বিত কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। এ উপলক্ষে শহরের পালপাড়া এলাকা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পিরোজপুর টাউন ক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।
পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে এই বহুমাত্রিক কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। র্যালি ও পরবর্তী পরিচ্ছন্নতা অভিযানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্কাউট সদস্য, সামাজিক সংগঠন ‘পজিটিভ পিরোজপুর’-এর স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। নাগরিকদের সরাসরি সহযোগিতা ছাড়া কেবল পৌরসভার পক্ষে পুরো শহরকে বর্জ্য ও ময়লামুক্ত রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি যত্রতত্র বা খোলা ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ফেলার অপসংস্কৃতি বর্জন করার আহ্বান জানিয়ে নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এই উদ্যোগকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও কার্যকর করতে জেলা পরিষদ ও পৌরসভা যৌথভাবে প্রতিটি এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োজিত করবে বলে জানানো হয়। এ ছাড়া বাড়ি বাড়ি গিয়ে ময়লা সংগ্রহের জন্য প্রতি পরিবারের জন্য মাসিক ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক উপায়ে তদারকির জন্য স্থানীয় যুবকদের নিয়ে এলাকাভিত্তিক মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে এবং জেলা পরিষদ দ্রুতই বর্জ্য অপসারণের কাজে গতি আনতে একটি বিশেষায়িত যানবাহন নামাবে।
অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, "আমরা যদি ডাস্টবিনে ময়লা ফেলার অভ্যাস কঠোরভাবে গড়ে না তুলি, তবে আমাদের রাস্তাঘাট কখনোই পরিচ্ছন্ন থাকবে না। আমাদের নিজেদের এবং সন্তানদের একটি সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য সম্মিলিত নাগরিক প্রচেষ্টা অপরিহার্য।"
এই অভিযানে পিরোজপুর পৌরসভা ও বেশ কয়েকটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জেলা পরিষদকে সার্বিক লজিস্টিক ও সাংগঠনিক সহায়তা প্রদান করছে। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন নিজে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সাথে যুক্ত হয়ে সড়কের পাশের ড্রেনের ময়লা পরিষ্কারের কাজে অংশ নেন, যা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। মাসব্যাপী এই নিবিড় কর্মসূচির মাধ্যমে পিরোজপুরকে একটি মডেল পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তর করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

