বরগুনায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপিত
আতিকুর রহমান ইশতি, বরগুনা সদর
বরগুনায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ব্যাপক উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বরগুনা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিকেল সাড়ে ৪টায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জাতীয় কবির বিদ্রোহী চেতনা, সাম্যবাদী দর্শন এবং অসাম্প্রদায়িক আদর্শ তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার মূল লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরগুনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোসা. তাসলিমা আক্তার।
আলোচনা পর্বে নজরুলের বৈপ্লবিক সত্তা এবং সামাজিক সাম্যের ভাবনার ওপর একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, সমকালীন সামাজিক অবক্ষয়, অসহিষ্ণুতা ও অস্থিরতা মোকাবেলায় নজরুলের মানবিক দর্শনের চর্চা অপরিহার্য। অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর কবিতা ও গান চিরকাল এক অবিনাশী কণ্ঠস্বর হিসেবে অনড় থাকবে।
অনুষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ বক্তাদের মধ্যে বরগুনা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা, সিভিল সার্জন আবুল ফাত্তাহ এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম কবির জীবন, সাহিত্য ও কালজয়ী প্রাসঙ্গিকতার ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় বরগুনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান এবং সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হারুন অর রশীদ রিংকুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোসা. তাসলিমা আক্তার কাজী নজরুল ইসলামকে কেবল একজন সাহিত্যিক হিসেবেই নয়, বরং বিদ্রোহ, সাম্য ও মানুষের মুক্তির এক অনন্য প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ধর্মের নামে উগ্রবাদের পরিবর্তে কবির অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবতার গভীর বার্তা একটি প্রগতিশীল আধুনিক সমাজ গঠনে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে। তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।
জেলা কালচারাল অফিসারের সমন্বয়ে আয়োজিত এই উদযাপন কর্মসূচিটি একটি আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক পর্বের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। স্থানীয় শিল্পীদের নজরুল গীতি পরিবেশনা এবং কবিতা আবৃত্তি উপস্থিত দর্শকদের মাঝে নজরুল চর্চার এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে দেশপ্রেম এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের বিকাশে এই ধরনের সরকারি সাংস্কৃতিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

