দোহারে প্রবাসীর বাড়িতে চুরি
দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি
ঢাকার দোহার উপজেলায় দিনে-দুপুরে এক প্রবাসীর বাড়ির তালা ভেঙ্গে প্রায় ১২ ভরি স্বর্নাংকার,নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা,দামী শাড়িকাপড় এবং ৪টি স্মার্ট মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে বলে জানান তার পরিবার। রোববার বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের ঘাড়মোড়া চটান সংলগ্ন প্রবাসী ওয়াসিম মৌড়লের বাড়িতে এই চুরি সংগঠিত হয়। এতে গৃহকর্তি ওয়াসিম মৌড়লের মা পারুল বিলকিস কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, তার নিজের এবং ছেলের বউয়ের সকল অলংকার চোরদল নিয়ে গেছে।তার দাবী ১৩ লক্ষ টাকার মালামাল খোয়া গেছে।
প্রবাসী ওয়াসিমের মামা আবুল খায়ের মৃধা জানান, ওয়াসিমদের বাড়ি থেকে আমাদের বাড়ি মাত্র ২০ গজ দুরে। দুপুর প্রায় দেড়টার দিকে বাড়ির সকলে বাড়িতে বেড়াতে আসে। এ সময়ে খাওয়া-দাওয়া শেষে প্রায় আধঘন্টা পরেই বাড়িতে ফিরলে দেখেন লোহার গেটের তালা ভাঙ্গা। এ সময়ে আমার বড় বোন পারুল বিলকিস চিৎকার দিলে আমরা সবাই এগিয়ে গেলে দেখা যায় পৃথক তিনটি ঘরের ভিতর কাঠের আলমারিয়ার দরজা ভাঙ্গা! জিনিষপত্র সব এলোমেলো।এ সময়ে কাঠের আলমারিয়ার গোপন ড্রয়ারের তালা ভেঙ্গে আমার বোনের ১ জোড়া রুলি, ১টি সিতা হার, একজোড়া কানের দুল, ভাগিনা বউয়ের ঘরের কাঠের আলমারিয়া ভেঙ্গে ১ টি সিতা হার,২টি চেইন,এক জোড়া কানের দুল ও ৬টি আংটি, ৩টি স্মার্ট মোবাইল ফোন ও নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা খোয়া যায়।তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় উঠতি বয়সী ছেলেদের আনাগোনা ও মাদক সেবনকারীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।
নারিশা ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন দরানী জানান, এতো অল্প সময়ের মধ্যে বাইরে থেকে কোন লোক আসে নাই।পরিচিত বখাটেরা ওৎ পেতে ছিলো বাড়িটা কখন খালি পাওয়া যায়।আর সেই সুযোগ তারা কাজে লাগিয়েছে।
উল্লেখ্য গত ১ সপ্তাহের মধ্যে দোহার উপজেলার আইনশৃঙ্খলার অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।এর ৫ দিন আগে কাটাখালি এলাকায় আপন দুই সহোদরের পৃথক বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।ডাকাতদল বাড়ির লোকজনকে কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়। এছাড়াও একই এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রলাপ,ইসলামাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে মেয়ে শিক্ষার্থীদের ইভটিজিংসহ কিশোর গ্যাংদের মাদক সেবন বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুল কতৃপক্ষ একাধিকবার সাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ দেওয়ার পরও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ জানান।
এ বিষয়ে সাইনপুকুর তদন্তকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.সুমন আহম্মেদ জানান, এস আই জসিম উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।তিনি বিষয়টি দেখবেন।
দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.হারুন অর রশিদ জানান, বিষয়টি তিনি প্রথম আমার কাছ থেকেই জানলেন। পুলিশ পাঠানো হচ্ছে,তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিদ্যালয় এলাকায় কোন ধরনের অসভ্যতা গ্রহন করা হবে না। কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা প্রস্তুত হচ্ছে।

