গোপালগঞ্জে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং: নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ ওজোপাডিকো
গোলাম রব্বানী, গোপালগঞ্জ:
গোপালগঞ্জে বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতির কারণে চলমান লোডশেডিংয়ে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। দিনে-রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন শহরবাসী। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে নিরাপত্তা জোরদারের আবেদন জানিয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক পত্রে জেলা পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়। ওই পত্রে দপ্তর, উপকেন্দ্র এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ওজোপাডিকো সূত্র জানায়, গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত পাওয়ার হাউজ ক্যাম্পাস ও চরপাথালিয়া এলাকায় অবস্থিত দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এর ফলে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে অসন্তুষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিদ্যুৎ অফিস, বিভিন্ন বৈদ্যুতিক স্থাপনা কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লক্ষ্য করে অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারে। এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় অফিস ও উপকেন্দ্রগুলোকে নিয়মিত পুলিশি টহলের আওতায় আনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারির দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, গোপালগঞ্জে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়েই বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়ায় অফিস ও উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সে কারণেই পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট চিঠি হাতে পাওয়ার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

