ডার্ক মোড
Monday, 03 August 2026
ePaper   
Logo
কেরানীগঞ্জ দক্ষিণের সাব-রেজিস্ট্রার ইমরুল খোরশেদ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভুয়া দাতা সাজিয়ে দলিল নিবন্ধনের অভিযোগ

কেরানীগঞ্জ দক্ষিণের সাব-রেজিস্ট্রার ইমরুল খোরশেদ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভুয়া দাতা সাজিয়ে দলিল নিবন্ধনের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক 

ঢাকার কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ব্যাপক জালিয়াতি, ঘুষ গ্রহণ, রাজস্ব ফাঁকি এবং ভুয়া দাতা সাজিয়ে দলিল নিবন্ধনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইমরুল খোরশেদ এবং তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এই অসাধু কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও দলিল লেখকরা।

অভিযোগ সূত্রের দাবি, সরকারি ফি র বাইরে মোটা অঙ্কের ‘টেবিল মানি’ বা ঘুষ ছাড়া অফিসে কোনো কাজই হয় না। সাধারণ সেবাগ্রহীতারা নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। জানা গেছে, অফিসে কর্মরত নকল নবিস মো. ফারুক ও মেহেদী হাসান রুমেলের মাধ্যমে কাজ না করলে সাধারণ মানুষকে নানামুখী হয়রানির শিকার হতে হয়।
দলিল লেখকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কমিশন দলিলের নামে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দাতার বাড়িতে গিয়ে কমিশন দলিলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয় এবং দাবিকৃত অর্থ না দিলে দলিল নিবন্ধন আটকে রাখা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন অনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাজশে ভুয়া দাতার টিপসই ব্যবহার করে কমিশন দলিল সম্পাদন এবং পরবর্তীতে মূল দলিলের তথ্য ঘষামাজা করে প্রকৃত মালিকদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে নকল নবিস মেহেদী হাসান রুমেলের বিরুদ্ধে।
যেসব সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে:
রাজস্ব ফাঁকি ও জালিয়াতি: আড়াকুল মৌজার এক জমির বায়নানামা দলিলের (১২ মার্চ ২০২৫) মূল্য পরবর্তীতে জালিয়াতি করে কম দেখানো হয়, যা সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি করেছে। একই ঘটনায় আসল গ্রহীতাকে বাদ দিয়ে ১ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে তার ছেলের নামে সাফ কবলা দলিল সম্পাদন করা হয়।

ভুয়া কাগজে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি: বেয়ারা মৌজায় ভুয়া নামজারি ও খাজনার রসিদ ব্যবহার করে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পাদন করা হয়। এই কাজে সাব-রেজিস্ট্রার ৫ লাখ টাকা ঘুষ এবং অতিরিক্ত ১ লাখ টাকা ‘অফিস খরচ’ হিসেবে গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নোটিশ ছাড়াই দলিল বাতিল: বাঘৈর মৌজার এক পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রাহককে কোনো প্রকার আইনি নোটিশ না দিয়েই বাতিল করা হয়। দলিলটি বাতিলের আগে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার হাতবায়না সম্পন্ন হয়েছিল। পরবর্তীতে ১০ লাখ টাকা ঘুষ এবং ২ লাখ টাকা অফিস খরচের বিনিময়ে অনৈতিকভাবে দলিলটি বাতিল করা হয়।
অভিযোগে প্রকাশ, গত বছরের ৫ আগস্টের পর সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইমরুল খোরশেদের জীবনযাত্রার মান অস্বাভাবিকভাবে বদলে যায়। ঢাকার মিরপুরে স্ত্রীর নামে আলিশান বাড়ি এবং নিজ জেলা শরীয়তপুরের জাজিরায় পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে।

ইতিপূর্বে তিনি মৌলভীবাজার সদর, শ্রীমঙ্গল, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন ও সদরপুর, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, উত্তরা এবং ময়মনসিংহের ত্রিশাল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি কেরানীগঞ্জ দক্ষিণে বদলি হয়ে আসেন এবং ঘুষ-দুর্নীতির রাজত্ব গড়ে তোলেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইমরুল খোরশেদকে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন