বিআইডব্লিউটিএর সমন্বয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি
বিআইডব্লিউটিএ সহকারী সমন্বয় কর্মকর্তা ( বিভাগীয় মামলা সেল) আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়াগেছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে বিআইডব্লিউটিএ ভবনের ষষ্ঠ তালায় তার অফিস। অভিযোগ রয়েছে তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর একই চেয়ারে থেকে কর্মচারী এবং কর্মকর্তাদের নামে বেনামি চিঠি লেখা তাদের নামে বিভাগীয় মামলা দেওয়ার পরে তাদের ডেকে নিয়ে বদলী ও সাসপেন্ডের ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।
এছাড়া চাকরি দেওয়া, বদলি বাণিজ্য করা, ঘাটের টেন্ডার ইজারা দেওয়া- সব জায়গায় হস্তক্ষেপ তরেন তিনি। বিআইডব্লিউটিএর সাবেক সচিব ওয়াকিল নেওয়াজেকে না হলেও দশ কোটি টাকা ইনকাম করে দিয়েছেন এ পথে। নিজেও হাতিয়েছেন প্রায় ২০ কোটি টাকা। তিনি এক টানা ১৫ বছর এক চেয়ারে চাকুরী করলেও তার কোন বদলী হয়না। এ বিষয়ে কোন সদুত্তোর দিতে পারেননি বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, কুমিল্লার গোমতী নদীর ওই পারে তিনি কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে বিশাল বাংলো বাড়ী নির্মাণ করেছেন। এলাকায় তিনি দানবীর হিসেবে পরিচিত। কুমিল্লা শহরে কোতোয়ালি থানার পাশে মুগলটুলিতে জামে মসজিদের পাশে সাততলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তার নামে দুটো প্রাইভেট কার কার আছে। সেগুলো তিনি বাড়ি গেলে ব্যবহার করেন। এলাকায় তার বিশাল মাছের ঘের ও গরুর খামার রয়েছে। এলাকায় সবাই জানেন, তিনি সচিব পদমর্যাদায় চাকরি করেন । ঢাকায় তিনি আলিশান ফ্লাটে থাকেন এবং একাধিক ফ্ল্যাটের ক্রয় করে ভাড়া দিয়েছেন। সব মিলিয়ে তার বেতন ৬০ হাজার টাকা। সেখানে এত সম্পদ কিভাবে করলেন সেটাই এখন সকলের প্রশ্ন।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, আমার সকল সম্পদ বৈধ। আমি কোন অনিয়ম,দুর্নীতি করি না। একই কর্মস্থলে ১৫ বছর চাকুরী করার বিষয়ে বলেন, আমার কর্তৃপক্ষ আমার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে একই কর্মন্থলে রেখে দিয়েছেন। এটা কোন অপরাধ নয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগি এই কর্মকর্তা দীর্ঘ ১৫ বছর কিভাবে একই কর্মস্থলে রয়েছেন তা খতিয়ে দেখার জন্য বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান ও দুদকের তদন্ত প্রার্থনা করেছেন বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা।

