ইরানে হামলা ‘অনন্ত যুদ্ধে’ গড়াবে না: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক
ইরানে চলমান বর্তমান সামরিক অভিযান কোনও দীর্ঘমেয়াদী বা ‘অনন্ত যুদ্ধে’ গড়াবে না বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। যদিও অভিযান রাতারাতি শেষ হবে না বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।
সোমবার পেন্টাগনে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হল তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার, নৌবাহিনী এবং নিরাপত্তা অবকাঠামো ধ্বংস করা।
শনিবার থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের পর এই প্রথম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন হেগসেথ। তিনি বলেন, “আমরা এই যুদ্ধ শুরু করিনি, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে আমরাই এটি শেষ করছি।”
‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন’ ও বর্তমান পরিস্থিতি:
এই অভিযানকে প্রচলিত অর্থে সরকার পরিবর্তনের যুদ্ধ বলতে নারাজ হেগসেথ। তবে তিনি মন্তব্য করেন, “এটি তথাকথিত কোনো ‘শাসনব্যবস্থা বদলের’ যুদ্ধ নয়, কিন্তু শাসনব্যবস্থা নিশ্চিতভাবেই বদলে গেছে এবং এতে বিশ্বের মঙ্গলই হয়েছে।”
সাবেক ওবামা প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির লক্ষ্যে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিল এবং ওবামার ‘ভয়াবহ চুক্তির’ অধীনে তারা প্রায় সফলও হয়ে যাচ্ছিল।
হেগসেথের ভাষায়, ইরান গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও স্বার্থের ওপর যে আঘাত হেনেছে, বর্তমান অভিযান তারই জবাব।
লক্ষ্য ও সময়সীমা:
পেন্টাগন প্রধান স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি নির্মূল করা, তাদের নৌবাহিনী ধ্বংস করা এবং পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন রুখে দেওয়া। তিনি ইরানে কোনও ধরনের জাতি-গঠন বা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
ওদিকে রোববার ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনে আগামী ‘চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ’ এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে সেসব লক্ষ্য ঠিক কী, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতাসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যু হয়েছে এবং কুয়েতে চার মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। সংঘাতের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুটি ধারণকৃত ভিডিও বার্তা দিয়েছেন।

