ডার্ক মোড
Tuesday, 21 July 2026
ePaper   
Logo
আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন

ওমর ফারুক

ফেরান তোরেসের অতিরিক্ত সময়ের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নিল স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের টানটান উত্তেজনার ম্যাচটি গোলশূন্য থাকার পর, অতিরিক্ত সময়ের এই একমাত্র গোলটি স্পেনের দীর্ঘ ১৬ বছরের বিশ্বজয়ের অপেক্ষার অবসান ঘটায়। অন্যদিকে, লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের এক বেদনাদায়ক সমাপ্তি টানে।

পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে যে নাটকীয়তা দেখা গিয়েছিল, ফাইনাল ম্যাচটি অবশ্য তেমন ছিল না; বিশেষ করে আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে তেমন কোনো কৌশলগত প্রতিরোধ দেখা যায়নি। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নেয় স্পেন, যার ফলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচেই কোণঠাসা হয়ে থাকে। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর সাথে সাথে রদ্রি, লামিন ইয়ামাল ও তাঁদের সতীর্থরা যখন উল্লাসে মেতে ওঠেন, তখন অশ্রুসিক্ত চোখে মাঠ ছাড়তে হয় মেসিকে। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করেও নিজের শেষ বিশ্বকাপটি রূপকথার মতো রাঙাতে পারলেন না এই মহাতারকা।

আলবিসেলেস্তেদের জন্য এই হার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে। অতিরিক্ত সময়সহ পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার কোনো খেলোয়াড় স্পেনের গোলপোস্ট বরাবর একটি শটও নিতে পারেনি। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের অফিসিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী, এবারই প্রথম কোনো ফাইনালিস্ট দল পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে কোনো অন-টার্গেট শট নিতে ব্যর্থ হলো।

বিপরীতে, লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা ছিল আক্রমণাত্মক। ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখে মোট ২০টি শট নেয়, যার মধ্যে ১২টিই ছিল অন-টার্গেট। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা একবারের জন্যও স্পেনের পেনাল্টি বক্সে প্রবেশ করতে পারেনি। স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমনকে পুরো ম্যাচে কোনো কঠিন পরীক্ষার মুখেই পড়তে হয়নি, এমনকি একটি সেভও করতে হয়নি। অন্যদিকে, বল পায়ে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে ব্যস্ত খেলোয়াড় ছিলেন তাদের গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার বল পজিশন ছিল মাত্র ৩৪ শতাংশ, যা ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে তাদের সর্বনিম্ন বল দখলের রেকর্ড।

অতিরিক্ত সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ ফাউল করে লাল কার্ড দেখলে আর্জেন্টিনার সংকট আরও ঘনীভূত হয় এবং তারা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ বেশ কয়েকটি চমৎকার সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখলেও স্পেনের মুহুর্মুহু আক্রমণ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। অবশেষে অতিরিক্ত সময়ের শুরুর দিকেই নিখুঁত শটে ডেডলক ভাঙেন ফেরান তোরেস, যা ম্যাচের জয়সূচক গোল হিসেবে প্রমাণিত হয়।

পরবর্তীতে নিকো উইলিয়ামসের একটি শট এবং তোরেসের দ্বিতীয় গোলটি যথাক্রমে ফাউল ও অফসাইডের কারণে বাতিল না হলে স্পেনের ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করে বিশ্বকাপজয়ী দল হিসেবে সবচেয়ে কম গোল খাওয়ার নতুন রেকর্ডও গড়েছে স্পেন।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন