
"নির্দেশ মানছেনা পাউবোর" কৃষকের পানি গিলছে হালদাভ্যালী চা-বাগান
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বারোমাসিয়া খালের গতি পরিবর্তন করে অবৈধভাবে পানি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে শিল্পপতি নাদের খানের মালিকানাধীন হালদা ভ্যালী চা-বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। পক্ষান্তরে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন পাম্প বসিয়ে একতরফা পানি উত্তোলন না করতে বাগান কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। কিন্তু বাগান কর্তৃপক্ষ তা এখনো মানছেন না। এদিকে, পানি না পেয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকার কৃষক। এ অবস্থায় উপজেলা প্রশাসন বলছে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রান্তিক কৃষকদের চাষাবাদের সুবিধার্থে ১৯৮০ সালে উপজেলার নারায়ণহাট ইদিলপুর এলাকায় একটি মাঝারি ধরনের স্লুইসগেট স্থাপন করে সরকার। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে এটি ব্যবহার করে শত শত কৃষক তাদের চাহিদামতো বোরো চাষাবাদ করেন। কিন্তু প্রতিবছরই বাগান কর্তৃপক্ষের গোয়ার্তুমির কারণে এলাকার শত শত কৃষক তাদের চাহিদামতো চাষাবাদ করতে পারেন না। ফলে কৃষকের মাঝে বিষয়টি নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ইদিলপুর স্লুইসগেটের উপরে বারোমাসিয়া খালের গতিপথ পরিবর্তন এবং খালের বিভিন্নস্থানে ৬টি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন পাম্প বসিয়ে পানি উত্তোলন করছে চা-বাগান কর্তৃপক্ষ। সেসব স্থানের বাসিন্দারা বলেছেন বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যায় এমন কিছু বলা বা এখানে থাকা কোন ভাবেই কারো সম্ভব নয়। ফলে কর্তৃপক্ষের শাসন-শোষণে সবাই জিম্মি। তারা এই জিম্মিদশা থেকে মুক্তি ও প্রশাসনের নজরদারী চান। স্থানীয় কৃষক মো. মুছা বলেন, ‘ধান রোপনের শুরুতে পানি পেলেও মাঝামাঝি সময়ে এসে খালে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায়না। হালদাভ্যালী চা-বাগান খালের বেশিরভাগ পানি অবৈধভাবে উত্তোলন করে নেওয়ায় আমরা চরমভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছি। ন্যায্য পানি না পেয়ে শত শত একর জমির চাষাবাদ নষ্ট হচ্ছে। এই মুহুর্তে পানির ব্যবস্থা না হলে কৃষকেরা চরমভাবে ক্ষতির মুখে পড়বে।’ স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাহার বলেন, ‘বাগানটি সব শেষ করে দিচ্ছে। তারা কারো কথা শুনেন না। পাউবোর নোটিশও মানেন না। এই মৌসুমে পানির চরমভাবে সংকট। আবার সেই ক্রান্তিকালে আমাদের মরার উপর খরার ‘ঘা’। এ অবস্থা থেকে আমরা মুক্তি চাই।’ বারোমাসিয়া পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. ফজলুল করিম বলেন, ‘এলাকার শত কৃষক পানির জন্য কষ্ট পাচ্ছেন- এটি ভাবতেই কষ্ট হয়। কিন্তু বাগান কর্তৃপক্ষকে কিছু বলতে পারি না। কৃষকেরা বোরোতে স্বপ্ন বুনেন। দেশের চাহিদা মেঠাতে তারা দিনরাত পরিশ্রম করেন। এভাবে হলে আমরা কীভাবে বাচঁবো।’হালদাভ্যালী চা-বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মো. মহসিনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হয়। তিনি ফোন ধরেন নি। পরে সেই মুঠোফোনে বার্তা পাঠানো হয়। বার্তার কোন জবাবও তিনি দেননি।পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) চট্টগ্রামের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সোহাগ তালুকদার বলেন, ‘বাগান কর্তৃপক্ষ এভাবে একতরফাভাবে পানি উত্তোলন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে এই নীতি সকলের জানা দরকার। তাদের আমরা (১১ মার্চ) তিনদিনের সময় বেঁধে দিয়েছি। না মানলে প্রশাসনের সাথে কথা বলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘পাউবো তাদের নোটিশ দিয়ে সময় বেঁধে দিয়েছেন। আশা করবো বাগান কর্তৃপক্ষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন। অন্যতায় দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ক্যাপশন: পাম্প দিয়ে পানি তুলছে হালদাভ্যালী চা বাগান
মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন
আপনি ও পছন্দ করতে পারেন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
আর্কাইভ!
অনুগ্রহ করে একটি তারিখ নির্বাচন করুন!
দাখিল করুন