ডার্ক মোড
Thursday, 23 May 2024
ePaper   
Logo
রাজশাহী বিভাগের বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

রাজশাহী বিভাগের বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

টি, এ পান্না, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি

ঈশ্বরদী-পাবনাসহ গোটা রাজশাহী বিভাগে চলমান সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালকের বিরুদ্ধে জুনিয়র কর্মকর্তাকে বিশেষ কৌশলে একটি বড় প্রকল্পের পরিচালক নিয়োগ করা, সাতজনকে নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীতে পদোন্নতি দেওয়া,সুবিধা নিয়ে ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া,নিম্নমানের কাজ করার পরও সহজভাবে ঠিকাদারদের বিল প্রদানে সহায়তা করাসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ ও বিএমডিএ এর কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের পক্ষ থেকে গত ২৪/১২/২৩ ইং তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো লিখিত অভিযোগ এবং বঞ্চিত বিভিন্ন ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে দেওয়া অভিযোগ সূত্রে এসব তথ্য জানাগেছে।

সূত্রমতে,বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) একটি বড় প্রকল্পের পরিচালক করা হয়েছে কনিষ্ঠ এক কর্মকর্তাকে। পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তাকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের বাধ্যবাধকতা থাকলেও মো. নাজমুল হুদা নামের যে কর্মকর্তাকে একটি বড় প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) করা হয়েছে তিনি বাস্তবে ষষ্ঠ গ্রেডের একজন প্রকৌশল কর্মকর্তা। তিনি সহকারী প্রকৌশলী হলেও বিএমডিএর প্রধান কার্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্বে আছেন। বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলীদের মধ্যে নাজমুল হুদার অবস্থান ২০তম এবং বিএমডিএর প্রকৌশল কর্মকর্তাদের মধ্যে তার অবস্থান ৪৭তম। যোগ্য না হলেও বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে একজন কনিষ্ঠ কর্মকর্তাকে প্রকল্প পরিচালক করেছে। এ ক্ষেত্রে বিএমডিএতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের নীতিমালা সুস্পষ্ট লংঘন এবং অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এ কারণে বিএমডিএর সিনিয়র কর্মকর্তাদের মাঝে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্রমতে, ডাবল লিফটিং পদ্ধতিতে পদ্মা নদীর পানি বরেন্দ্র এলাকায় সরবরাহ ও সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নাজমুল হুদাকে নিয়োগ দিয়ে গত ৩ মার্চ কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ প্রকল্পের মোট অর্থমূল্য ধরা হয়েছে ৫২০ কোটি টাকা। এর আগে বিএমডিএ’র পক্ষ থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রধান প্রকৌশলী আবুল কাশেম, তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ ও চলতি দায়িত্বের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হুদার নাম প্রকল্প পরিচালক হিসাবে সুপারিশ দিয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

রহস্যজনক কারণে এবং পেছন দরজা দিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দুতে বিশেষভাবে তদ্বির করার কারণে বিএমডিএ কর্তৃপক্ষের পছন্দের জুনিয়র কর্মকর্তা নাজমুল হুদাকেই প্রকল্প পরিচালক করে প্রজ্ঞাপন জারি করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব তাসলিমা আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিএমডিএ-তে মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনটি সম্প্রতি জানাজানি হলে সিনিয়র তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও নির্বাহী পরিচালকের কাছে মৌখিকভাবে অনিয়মের মাধ্যমে একটি বড় প্রকল্পের পিডি নিয়োগের প্রতিবাদ জানান। চাকরি বিধি শৃঙ্খলার কারণে প্রতিবাদকারী বঞ্চিত এসব কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি না হলেও বিভিন্ন মিডিয়াকে বস্তুনিষ্ট তথ্য দিয়ে সত্য উদঘাটনসহ বিচার দাবি করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ মতে, বিএমডিএতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের জন্য একটি নীতিমালা রয়েছে। নীতিমালার ৩ এর ২(খ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তাকে প্রকল্প পরিচালক করতে হলে মানদন্ড হিসেবে শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মঅভিজ্ঞতা, প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা, প্রকিউরমেন্ট-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বিবেচনায় নিতে হবে। নীতিমালার ৪ (৪) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, জাতীয় বেতন স্কেলের পঞ্চম গ্রেডের নিচে নয় এমন কর্মকর্তাকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করতে হবে।

এক্ষেত্রে মো. নাজমুল হুদা একজন ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে কোনোভাবেই প্রকল্প পরিচালক হিসাবে নিয়োগ পেতে পারেন না। নীতিমালার ৪(৪) অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়েছে, ক্রয়সংক্রান্ত বিধানাবলী, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, বাস্তবায়ন কাজে অভিজ্ঞ এবং পঞ্চম গ্রেডের নিচে নয় এমন অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এক্ষেত্রে পিডি হতে আগ্রহী প্রধান প্রকৌশলী আবুল কাশেম ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ, নাজমুল হুদার চেয়ে অনেক সিনিয়র ও অভিজ্ঞ। প্রকল্পটিতে ডাবল লিফটিং পদ্ধতিতে বরেন্দ অঞ্চলে পদ্মার পানি সরবরাহ ও সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও উচ্চ কারিগরি জটিলতা রয়েছে। এ ধরনের একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল প্রকল্পের পরিচালক করা হয়েছে কনিষ্ঠ একজন কর্মকর্তাকে, যার প্রকল্প বাস্তবায়নসংক্রান্ত অতীত কোনো অভিজ্ঞতা নেই। সেক্ষেত্রে এমন একটি বড় প্রকল্প কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে বিএমডিএ এর কর্মকর্তাদের মধ্যে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

এদিকে প্রকৌশলী নাজমুল হুদার নাম মন্ত্রণালয়ে সুপারিশের ক্ষেত্রে জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলেও সূত্রটি দাবি করেছে। বিএমডিএর কর্মকর্তাদের তালিকায় দেখা গেছে, প্রকৌশলী নাজমুল হুদা ষষ্ঠ গ্রেডের একজন কর্মকর্তা। কিন্তু গত ১১ জানুয়ারি বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রশিদ কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবনা ও সুপারিশে নাজমুল হুদাকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নির্বাহী পরিচালকের প্রত্যক্ষ মদদে প্রতিবছর প্রতি বছর কোটেশনের নামে লুটপাট করা হয়েছে। আর্থিক ষমতার অপব্যবহার করে সরকারী অর্থের পশতকরা পঁচিশভাগ বেসরকারী ব্যাংকে রাখার নিয়ম থাকলেও তিনি সমস্ত টাকা প্রতি বছর বিভিন্ন প্রকল্পের এডিপির টাকা বেসরকারী ন্যাশনাল ব্যাংকে জমা রেখে ব্যাংক থেকে অনৈতিক অর্থ গ্রহণ করেন। সরকারী নিয়মানুযায়ী বিএমডিএ বাজেড বোর্ডের অনুমোদন অনুমোদনক্রমে বিভিন্ন খরচ করার কথা থাকলেও তিনি তা না করে নিজ ইচ্ছামত খরচ করছেন। এছাড়াও নাচোল জোনের রতিপুর-১ মৌজার গভীর নলকুপের কাজে অনিয়ম, নাচোর জোনের কাজল কেশর-১ গভীর নলকুপের পাইপ লাইন স্থাপন কাজে অনিয়ম,গোদাগাড়ি -১ জোনের শাহাব্দি মৌজার গভীর নলকুপের পাইপ লাইন স্থাপন কাজে অনিয়ম করা হয়েছে।

এসব কাজে নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে। বেঙ্গলপ্লাস্টিক পাইপ লিমিটেড,ঢাকা থেকে দু’লটে ৪১ হাজার ১’শ মিটার পাইপ ও ফিটিংস গ্রহণ করা হয়।পাইপগুলোর গূণগত মান নি¤œমানের হওয়া সত্বেও ৩ কোটি ১১ লাখ ৬০ হাজার ৩’শ২২ টাকা পরিশোধ করা হলেও পাইপগুলোর গুণগত মান খুবই খারাপ। এমনকি অধিকাংশ স্কীমের এয়ারভেন্ট বাকাভাবে স্থাপন করা হয়েছে। এসব অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয়টি গত ২৪.১২.২০২৩ ইং তারিখে দাখিলকৃত তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল লতিফের পরিদর্শন রিপোর্টেও উল্লেখ করা হয়েছে। নানা প্রকার দূর্নীতির কারণে নির্বাহী পরিচালকের নামে সম্প্রতি রাজশাহীতে দূর্নীতি দমন কমিশনেও একটি মামলা হয়েছিল।ৎ

#বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রহস্যজনক কারণে একজন কনিষ্ঠ কর্মকর্তাকে বড় প্রকল্পের পরিচালক নিয়োগ দেওয়াসহ সকল অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা ও সঠিক না দাবি করে বিএমডিএ এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আব্দুর রশিদ বলেন,প্রকজল্পের পিডি নিয়োগের বিষয়টি মন্ত্রনালয়ের এখতেয়ারভুক্ত। মন্ত্রনালয় যাকে যোগ্য মনে করেছে, তাকেই পিডি নিয়োগ দিয়েছে। আমি শুধুমাত্র নাম প্রস্তাব করি। নাজমুল হুদাকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও প্রতিষ্ঠানের অর্গানোগ্রামেই ভুল আছে উল্লেখ করে বলেন, যারা পিডি নিয়োগের বিরোধীতা করছেন,তারা যে পদে আছেন তাদের ক্ষেত্রেও এমনটি হয়েছে । যারা পিডি হতে পারেননি তারাই তাদের মনোবেদনা থেকে সাংবাদিকদের নিকট বিভিন্ন তথ্য প্রদান করে বিরোধিতা করছেন। অনিয়ম ও দূর্নীতির তথ্যদাতাদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন,যারা পিডি নিয়োগ নিয়ে নাড়াচারা করছেন তাদের ক্ষেত্রেও তদন্ত করলে কেঁচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে আসতে পারে।#

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন