ডার্ক মোড
Sunday, 21 April 2024
ePaper   
Logo
চিলমারীতে নাব্যতা সংকটে ফের বন্ধ হয়েছে ফেরি চলাচল

চিলমারীতে নাব্যতা সংকটে ফের বন্ধ হয়েছে ফেরি চলাচল

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ(বিআইডব্লিউএ)’র গাফিলতির কারনে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী-রৌমারী নৌপথে আবারো ফেরি চলাচল বন্ধ হয়েছে।নাব্যতা সংকটে ফেরি চলাচলের চ্যানেল ড্রেজিং না হওয়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার কথা জানান বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক চ্যানেল ড্রেজিংয়ে অবহেলা ও গাফিলতির কারনে প্রায়ই এমন দূর্ভোগ হচ্ছে বলে এলাকাসীর দাবী।এতে করে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রাস্তার উপরে দাড়িয়ে থাকা পণ্যবাহী পরিবহণের চালক ও শ্রমিকরা।

জানা গেছে,বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ(বিআইডব্লিউএ)’র উদ্যোগে চিলমারী-রৌমারী নৌপথে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয় চলতি বছরের ২০সেপ্টেম্বর তারিখে। উদ্বোধন থেকে দেড় মাসের অধিক সময় ধরে নিয়মিত দুটি ফেরিতে পণ্যবাহীসহ বিভিন্ন প্রকার পরিবহন পারাপার করে আসছে।প্রতি ট্রিপে ফেরী কুঞ্জলতা ৮/৯টি,বেগম সুফিয়া কামাল ১২/১৩টি ও কদম ৮/৯ টি পণ্যবাহী গাড়ি পারাপার করতে পারে।

এর মধ্যে বেগম সুফিয়া কামালকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি হঠাৎ কমে যাওয়ায় নাব্যতা সংকট দেখা দেয়। বিআইডব্লিউটিএ যথাযথভাবে ফেরি চলাচলের চ্যানেল ড্রেজিং(খনন) না করায় ফেরি আটকে গিয়ে অক্টোবর মাসের শেষের দিকে ৩-৪দিন ফেরি পারাপার বন্ধ ছিল। সামান্য ডেজিংয়ের পর ফেরি চালুর ১০দিনের মাথায় নাব্যতা সংকটের অজুহাতে শুক্রবার (১০ নভেম্বর) সকাল থেকে আবারও ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।ফেরি বন্ধ থাকায় পার হতে আসা অন্তত ২০টি পণ্যবাহী ট্রাক ফেরত চলে গেলেও ২০টির অধিক ট্রাককে দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।এতে সময় মত পার হতে না পারায় ঘাট এলাকার রাস্তায় ফেরি পারাপারের জন্য অপেক্ষমান পরিবহন শ্রমিকদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ৩টি পণ্যবাহী পরিবহণ নিয়ে পারাপার হতে ফেরি দুটি একটি জায়গায় আটকে যায়। অনেক চেষ্টা করে ফেরি দুটি পারি জমানোর পরে শনিবার থেকে আর যাত্রা করেনি।ফেরি চলাচলের চ্যানেল ড্রেজিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানায় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।ফেরি চলাচল বন্ধের কারন হিসাবে বিআইডব্লিউটিএ’র অবহেলাকে দায়ী করছে এলাকাবাসী। শনিবার দুপুরে ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়,দুদিন ধরে ফেরি বন্ধ থাকায় রাস্তায় ২০টির মতো পণ্যবাহী পরিবহন ফেরি পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছে।

এসময় ভূরুঙ্গামারী থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকের চালক মো.সোহেল মিয়া,বুড়িমারী থেকে আসা রবিউল ইসলাম,পঞ্চগড় থেকে আসা আকরাম হোসেনসহ অনেকে জানান,ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ২০টির মতো ট্রাক ফিরে গেছে। চালক সাইফুল ইসলাম জানান, ৫দিন ধরে ঘাটে আছি,ফেরি চলে না যেতেও পারছি না। হাতের টাকাও শেষ হয়েছে, কি করবো ভেবে পাচ্ছি না।

বিআইডব্লিউটিসি’র ম্যানেজার বাণিজ্য প্রফুল্ল চৌহান বলেন,৩টি করে ট্রাক নিয়ে যেতেও ফেরি আটকে যাচ্ছে। চ্যানেল ড্রেজিং এর কাজ চলমান থাকায় সাময়িকভাবে ফেরি পারাপার বন্ধ রাখা হয়েছে। চ্যানেল ড্রেজিং হয়ে গেলে পুনঃরায় ফেরি চলাচল করবে।

চিলমারী বন্দরের পোর্ট অফিসার মো.আসাদুজ্জামান ইমন জানান,নাব্যতা সংকটের কারনে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে পারা যায় না,তারপরও আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।নৌ-পথের দৈর্ঘ্যকে ২-৩কি.মি. কমিয়ে নাব্যতা অনুযায়ী চ্যানেল নির্ধারন ও ড্রেজিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরিন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ(বিআইডব্লিউটিএ)’র বন্দর ও পরিবহন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন এর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজে কথা না বলে ড্রেজিং বিভাগের অতিরিক্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলতে বলেন।

বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের অতিরিক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান,ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই।জেনে কথা বলতে হবে।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন