ডার্ক মোড
Thursday, 13 June 2024
ePaper   
Logo
এলজিইডিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে অফিস সহকারী বাবু

এলজিইডিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে অফিস সহকারী বাবু

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯৮৪ সালের অক্টোবরে ওয়ার্কস প্রোগ্রাম উইং রাজস্ব বাজেটের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল ব্যুরো (এলজিইবি) রূপে গঠিত হয়। ১৯৯২ সালের আগস্ট মাসে এলজিইবিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) হিসেবে রুপান্তরিত করা হয়। প্রায় তিন দশকের স্বনামধন্য এ প্রতিষ্ঠানটিতে অনেক ভালো মানুষের আগমন যেমন ঘটেছে, তেমনি কিছু দুর্নীতিবাজের আগমনও ঘটেছে। যাদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের অর্থনীতি, বদনামও হয়েছে দপ্তরের। নিজ আখের গোছাতে কোন কৌশলই বাদ দিচ্ছেন না তারা।

এবার পাওয়া গেল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী বিকল্প। যাহার নাম শহিদুল ইসলাম (বাবু), পদবী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর। গ্রামের বাড়ী শরিয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলায় শ্রেণী-তৃতীয়, গ্রেড-১৬, বেতন পায় সর্বসাকুল্যে ২৬২৭৬ টাকা। অথচ হাকান দামি গাড়ী, আছে কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট। নামে বেনামে জায়গাজমিসহ অনেক কিছু। চলনে বলনে মনে হবে কোন রাজা বাদশা। প্রধান প্রকৌশলীসহ দপ্তরটির কর্মকর্তা কর্মচারীদের তার হুকুম ছাড়া নড়াচড়া করার ক্ষমতা নেই বলে জানা যায়। কেনইবা যাবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকি তার ডান হাত। বাবুর কথার বাহিরে নাকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক পা সামনে এগোয় না। তিনি বলে বেড়ান দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবু না থাকলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পাশ করার কোন সম্ভাবনাই ছিলোনা। আপনারা ছবি দেখে বোঝেননা তার সাথে আমার কি সম্পর্ক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলজিইডির একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য সে অনেকের গায়ে হাতও তুলেছে। যে কারণে তার বিরুদ্ধে টুঁশব্দ করার সাহস পায়না কেউ। বাবু চাকরি করে নামে মাত্র, কিন্তু তার মুল কাজ, বদলি ও টেন্ডার বানিজ্য। জানা যায় বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা পরিচয় দিয়ে বিএনপি জামায়ত ঘেষা এই কর্মচারী বছরের পর বছর আরডিসি ভবন (এলজিইডি) তে অফিসারদের মত এলজিইডির গুরুত্ব বিষয় সিদ্ধান্ত দিয়ে যাচ্ছে। সামান্য একজন কর্মচারি যার শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং নিয়োগ নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

এলজিইডির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারতারা তার কথা না শুনলে সে বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা পরিচয় দিয়ে কয়েকজন সন্ত্রাসী নিয়ে অফিসারদের ভয়ভীতি দেখান। জোরপূর্বক বিভিন্ন ধরনের কাজের ফায়দা লুটেন। নিয়োগ বদলিবাণিজ্য, ঠিকাদারী কাজের অনৈতিক সুবিধা নিতে সে অফিসারদের বিভিন্ন ভাবে নাজেহাল করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। বিভিন্ন কর্মচারীদের মামলা পরিচালনা ও চাকুরি স্থায়ি করার জন্য সে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

আর এসব অনৈতিক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ছবি তার ছবির সাথে অফিস কক্ষে টাঙিয়ে। বীরদর্পে করে যাচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম। একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী হয়ে সরকারি আচরণ বিধি লংঘন করেন। তার উপরের বড় কর্মকর্তাদের ভাই সম্মোধন করেও কথা বলতে দেখা গেছে। এলজিইডিতে বৈধ কোন ট্রেড ইউনিয়ন না থাকলেও বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে শহিদুল ইসলাম ওরফে বাবু এলজিইডির মত স্বনাম ধন্য প্রতিষ্ঠানকে নানা প্রশ্নের সম্মুখিন করছে। তার মত একজন কর্মচারীর আচরনে পুরো এলজিইডি ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বাবুর মত সন্ত্রাসী লোকের সরকারী চাকুরী করার যোগ্যতা অনেক আগে হারিয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করছে না তা রহস্য জনক।

এ ব্যাপারে মন্তব্য জানতে একাধিকবার অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন