ডার্ক মোড
Monday, 22 June 2026
ePaper   
Logo
সাংবাদিক শামীম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে মানহানি মামলার নিন্দা ক্র্যাবের, প্রত্যাহারের দাবি

সাংবাদিক শামীম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে মানহানি মামলার নিন্দা ক্র্যাবের, প্রত্যাহারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও সংগঠনের সিনিয়র সদস্য শামীম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)।

এক যৌথ বিবৃতিতে ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম রাজি এই মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। ক্র্যাব নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা দায়ের স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বড় অন্তরায়। একই সাথে তারা ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন কর্তৃপক্ষকে শামীম সিদ্দিকীর দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ করার জোর আহ্বান জানান।

জানা গেছে, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান এই মানহানি মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় ড. রহমান দাবি করেন, ‘ডেইলি খবর’ নামের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত কথিত মানহানিকর সংবাদে তিনি সংক্ষুব্ধ হয়েছেন।

এদিকে শামীম সিদ্দিকী অভিযোগ করেছেন, তিনি অষ্টম ওয়েজবোর্ডের অধীনে ‘দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ’-এর একজন স্থায়ী কর্মকর্তা। তিনি তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করেননি এবং তাঁকে চাকরি থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, যখনই তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন-ভাতা দাবি করেন, তখনই তাঁকে বিভিন্ন মামলা ও হামলার হুমকি দেওয়া হয়।

শামীম সিদ্দিকীর ভাষ্যমতে, পত্রিকাটির সাবেক সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সাবেক সভাপতি কাজী রফিকুল আলম। রফিকুল আলম দুই বছরেরও বেশি সময় আগে সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করলেও ড. গোলাম রহমান তাঁর অজান্তেই পত্রিকার প্রিন্টার্স লাইনে তাঁর নাম ছেপে যাচ্ছেন। কাজী রফিকুল আলমের গুরুতর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে ড. রহমান বেআইনিভাবে পত্রিকার প্রকাশনার দায়িত্ব নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন, প্রাইম ব্যাংকে একটি পৃথক অ্যাকাউন্ট খোলেন এবং তাঁর হিসাবরক্ষক আজাদের স্বাক্ষরিত চেকের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একদিকে বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন ও অপব্যবহার করা হচ্ছে, অন্যদিকে তাঁর ন্যায্য পাওনা আটকে রাখা হয়েছে। ড. রহমানের সরাসরি নির্দেশে তাঁর হিসাবরক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই বিগত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে শামীম সিদ্দিকীর বেতন ও অন্যান্য ভাতা বন্ধ করে রেখেছেন।

শামীম সিদ্দিকী যোগ করেন, অনলাইন পোর্টাল ‘ডেইলি খবর’ ড. রহমানের অতীত ও বর্তমানের বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছিল। এই প্রতিবেদনগুলো প্রকাশের পেছনে তাঁর হাত রয়েছে— এমন ভিত্তিহীন সন্দেহের বশবর্তী হয়ে ড. রহমান সম্পূর্ণ প্রতিহিংসামূলকভাবে এই মানহানি মামলাটি দায়ের করেছেন।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন