Dark Mode
Tuesday, 23 June 2026
ePaper   
Logo
মিরসরাইয়ে নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে বাঁধ, হুমকিতে মৎস্য খামার

মিরসরাইয়ে নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে বাঁধ, হুমকিতে মৎস্য খামার

আনোয়ারুল হক নিজামী মিরসরাই (চট্টগ্রাম) 
 
 
 
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ফেনী নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্টের (সিডিএসপি) বাঁধ। প্রতিদিন নতুন নতুন অংশ ভেঙ্গে যাচ্ছে। গত কয়েকদিনে বাঁধের একাংশ নদীতে বিলীন হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙ্গে পড়েছে। ভেঙ্গে গেছে কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটি ও সড়কের পাশের অসংখ্য গাছ। ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এ এলাকার মৎস্যচাষিরা। দ্রুত বাঁধের ভাঙন ঠেকানো না গেলে মৎস্য শিল্পে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। লবণাক্ত পানি ঢুকলে মাছচাষ হুমকির মুখে পড়বে।
 
অথচ সিডিএসপি  বাঁধকে ঘিরে বদলে গেছে এখানকার চিত্র। গড়ে উঠে শত শত মৎস্য প্রকল্প। এসব মৎস্য প্রকল্পে চাষাবাদ করে ভাগ্য বদলেছে অসংখ্য মানুষের জীবন । 
 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিরসরাইয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা বঙ্গোপসাগরের ভাঙন থেকে রক্ষা করতে ১৯৯৪ সালে চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্টের (সিডিএসপি) আওতায় ১১.৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ভাঙ্গনের তীব্রতার ফলে ফেনী নদীতে বিলীন হয়ে গেছে ২০০ একরের মৎস্য প্রকল্প। বিলীন হওয়ারর পথে ৫০০ একর মৎস্য প্রকল্প। অথচ এখান থেকে চট্টগ্রামের মাছের চাহিদার ৭০ শতাংশ উৎপাদিত হয়।
 
 ফেনী, মুহুরী ও কালিদাস নদীর সম্মিলিত পানি প্রবাহকে সেচ কাজে লাগাতে এবং ফেনী, সোনাগাজী ও মিরসরাই এলাকাকে বন্যা ও ভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্প মুহুরী সেচ প্রকল্প ১৯৭৭-৭৮ অর্থ বছরে শুরু হয়ে ১৯৮৫-৮৬ অর্থ বছরে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। ইতিমধ্যে ফেনী নদীর ভাটি এলাকায় পলি জমায় মুহুরী সেচ প্রকল্প কার্যকারিতা হারাতে বসেছে। এতে চট্টগ্রাম ও ফেনী সীমান্তবর্তী ফেনী নদীর স্বাভাবিক গতিও বদলে গেছে। ইতোমধ্যে মিরসরাই জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে মুহুরি প্রকল্প বাঁধকে সংযুক্ত করা করেছে।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় লোকজন জানায়, চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্টের (সিডিএসপি) আওতায় মিরসরাইয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা বঙ্গোপসাগরের ভাঙন থেকে রক্ষা করতে বাঁধটি নির্মাণের পর ইছাখালী ও ওসমানপুর ইউনিয়ন এলাকায় বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মৎস্য চাষ শুরু হয়।
 
এই সিডিএসপির বাঁধে ভাঙনের ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে উপজেলার ওসমানপুর ও ইছাখালী ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। সিডিএসপির বাঁধ পুরোপুরি ভেঙে গেলে এই বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দেবে। নদীতে বিলীন হবে কয়েক শত শত মৎস্য প্রকল্প। ভাঙন অব্যাহত থাকলে ভাঙনকবলিত এলাকার স্বল্প দূরত্বে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া দেশের সর্ববৃহৎ জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নকাজও ঝুঁকিতে পড়বে।
 
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের আগস্ট মাসে সিডিএসপি বাঁধের কিছু অংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়। তখন ভাঙা অংশে নদীর প্রবাহ অন্য দিক দিয়ে ঘুরিয়ে বাঁধ নতুন করে নির্মাণ করা হয়।
 সরেজমিনে গিয়ে যায়, মুহুরি সেচ প্রকল্পের ২ কিলোমিটার দক্ষিণে অন্তত ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের তীব্রতায় কোনো কোনো অংশে বাঁধের অর্ধেকেরও বেশি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বাঁধের কিছু অংশে দেখা দিয়েছে বড় ফাটল। 
 
মিরসরাইয়ের ইছাখালী আবুরহাট এলাকার মৎস্যচাষি মো: মোস্তফা  বলেন, 'সিডিএসপি বাঁধ ভাংগার ঝুঁকিতে থাকায় আমার  ১৪ একর মৎস্য প্রকল্প হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙনের ঝুঁকি থাকায় মৎস্য খামারটি এবার চাষ বন্ধ রেখেছি।'
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিন বলেন, 'উপজেলার উত্তর ইছাখালী এলাকায় ফেনী নদীর পাড়ে সিডিএসপির বাঁধে ভাঙনের বিষয়টি আমি জেনেছি। এ বিষয় ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। ভাঙনের বিষয়টি আমরা তদারক করছি। উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে ব্যাপারটি জানিয়েছি।
 
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অলক দাশ বলেন, 'বাঁধে ভাঙনের বিষয়টি জেনে আমাদের কর্মকর্তারা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আমরা জরুরি প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত বাঁধটির ভাঙন রোধের ব্যবস্থা নেব।'
 

Comment / Reply From

You May Also Like

Vote / Poll

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

View Results
হ্যাঁ
0%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%

Archive

Please select a date!