প্রথম নারী আইজিআর হিসেবে দায়িত্ব নিলেন শামীমা আফরোজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের ভূমি নিবন্ধন ব্যবস্থার ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করে প্রথমবারের মতো একজন নারী জেলা ও দায়রা জজ সরাসরি নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজিআর) হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। ঢাকা বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারক শামীমা আফরোজ গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নতুন পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এর আগে গত ২১ জুন সরকারের পক্ষ থেকে নিবন্ধন অধিদপ্তরের এই শীর্ষ প্রশাসনিক পদে তাঁর নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে জজ উম্মে কুলসুম অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে আইজিআর-এর দায়িত্ব পালন করলেও, কোনো নারী জেলা ও দায়রা জজের এই মর্যাদাপূর্ণ পদে সরাসরি স্থায়ী নিয়োগ পাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।
শামীমা আফরোজ ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে একজন রিসার্চ অফিসার (গবেষণা কর্মকর্তা) হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন, যেখানে তিনি দেশের প্রখ্যাত আইনবিদ ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল ইসলামের সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ পান। পরবর্তীতে তিনি ১৮তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৯৮ সালের ২৪ জুন বিচার বিভাগে যোগদান করেন। তাঁর দীর্ঘ ও গৌরবময় কর্মজীবনে তিনি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং মৌলভীবাজার জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অত্যন্ত সুনামের সাথে জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নিবন্ধন অধিদপ্তরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ সরকারি বিভাগের শীর্ষ পদে শামীমা আফরোজের এই নিয়োগ বাংলাদেশের বিচার বিভাগ এবং সার্বিক জনপ্রশাসনে নারীর নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়ন বিকাশে এক অনন্য মাইলফলক।
ব্যক্তিগত জীবনে শামীমা আফরোজ ১৯৭২ সালের ২৫ মে নোয়াখালী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা প্রয়াত আবদুল খালেক এবং মাতা মনসুরা বেগম। বাবার পেশাগত বদলির সূত্রে তাঁর শৈশবের একটি বড় অংশ তৎকালীন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে অতিবাহিত হয় এবং তিনি মস্কোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস স্কুল থেকে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপন করেন। জুডিশিয়াল সার্ভিসে তাঁর এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ এই শীর্ষ পদে তাঁর অন্তর্ভুক্তি দেশের ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Comment / Reply From
You May Also Like
Latest News
Vote / Poll
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

