জামালপুরে পাটের বাম্পার ফলন, বাজারে দাম বেশি পাওয়ায় কৃষক খুশি
জামালপুর প্রতিনিধি
বাজারে পাটেরদাম বেশি থাকায় জামালপুরের পাটচাষীদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।বিগত বছরগুলোর তুলনায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও বন্যা না হওয়ায় জেলায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে।অপরদিকে প্রতি বছরের ন্যায় সময়মতো বন্যা ও বৃষ্টি না হওয়ায় খাল, বিল ও নদীতে পানি কম। তাই অনেক কৃষক কাঁচা পাট কেটে জাগ দিয়ে পচাতে পারছে না। এদিকে কাঁচা পাটের বয়স বেশি হওয়ায় ক্ষেতেই মরে যাচ্ছে।
জানা যায়, পাট চাষ করে তিন মাসের মধ্যে অল্প পরিশ্রমে পাট ঘরে তোলা যায়। প্রতি বিঘা জমিতে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ করে ১০-১২ মণ পাট পাওয়া যায়। চলতি মৌসুমে বাজারে পাটের মান ভেদে ২ হাজার ৬ 'শ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এবার বন্যা না হওয়ায় পাট চাষিদের পাটের কোনো ক্ষতি হয়নি। পাটের ভালো ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি পাট চাষীরা।
নোয়াপাড়া গ্রামের পাটচাষী খলিল মিয়া জানান, সময়মতো বন্যা ও বৃষ্টি না হওয়ায় জমি খনন করে গর্তে বৃষ্টির পানি ও স্যালো মেশিন চালিয়ে পানি আটকে রেখে পাট জাগ দিচ্ছি। অল্প গোলাটে পানিতে পাটের রং ভালো না হওয়ায় কম দামে বিক্রি করতে হবে।
বেলগাছা গ্রামের পাটচাষী হাসমত আলী জানান, কাচাঁ পাটের বয়স বেশি হওয়ায় ক্ষেতেই পাট মরে যাচ্ছে। আরো ১৫ থেকে ২০ দিন আগে কাটতে পারলে পাটগুলি মরত না। এবার পাট কেটে কোথায় যে জাগ দিব বুঝতে পারছি না।
পাটচাষী আবুল কাশেম জানান, সোয়া ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে তার খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। ওই জমিতে ১৮ মণ পাট হয়েছে। প্রতি মণ পাট ২ হাজার ৯০০ টাকা দরে বিক্রি করছে। এতে তার খরচ বাদে ৩৭ হাজার ২০০ টাকা লাভ হয়েছে। পাট বিক্রি করে খুব খুশি তিনি।
সরিষাবাড়ির পাট ব্যবসায়ী এরশাদ আলী জানান, চলতি মৌসুমে পাটের বাজার বেশি হওয়ায় কৃষক লাভবান। তবে ব্যবসায়ীদের মিল কারখানায় পাট বিক্রি করতে সমস্যা হচ্ছে। অনেক পাটের মিল বন্ধ রয়েছে। এ অঞ্চলের পাট ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন মিল কারখানায় বিক্রি হয়ে থাকে।
ঝালুরচর বাজারের সাব ইজারাদার মোঃ উজ্জল মিয়া জানান, এবার পাটের হাটে ক্রেতা বিক্রেতা ভালই আসে। প্রতি হাটে প্রায় ১ কোটি টাকার পাট কেনাবেচা হয়ে থাকে। পাটের হাটে জায়গার সঙ্কটের কারণে পাট কেনাবেচায় সাময়িক সমস্যা হচ্ছে।
ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ.এল.এম রেজুয়ান জানান- চলতি মৌসুমে বাজারে পাটের ভালো দাম থাকলেও পানির অভাবে কৃষকরা কিছুটা বিপাকে পড়েছে। চলতি পাট মৌসুমে উপজেলায় ১০ হাজার ৫ শত ৪০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে দেশী ৪ শত ৭৫ হেক্টর, তোষা ৯ হাজার ৯ শত ২৫ হেক্টর, কেনাফ ১ শত ৫ হেক্টর, মেস্তা ৩৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। উপজেলায় ৭ আগষ্ট পর্যন্ত ৪ হাজার ৭ শত ৫০ হেক্টর জমির পাট কর্তন করা হয়েছে ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নিতাই চন্দ্র বণিক জানান, অনুকুল পরিবেশ আর বীজের সহজলভ্যতার কারণে এবার জামালপুরে ৩০ হাজার ৩ শত ৫০ হেক্টর জমিতে দেশি, তোশা, কেনাফ ও মেস্তা জাতের পাটের চাষ হয়েছে। এবার পাটের বাম্পার ফলন হওয়ায় পাটচাষীরা বেশ লাভবান হবে। পাট বিক্রি করে রোপা আমন এর জন্য বাড়তি দু‘পয়সা ঘরে তুলতে পারবে পাট চাষীরা।
Comment / Reply From
You May Also Like
Latest News
Vote / Poll
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

