ডার্ক মোড
Friday, 10 July 2026
ePaper   
Logo
সংস্কৃতি ও ফুটবলের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ় হবে বাংলাদেশ-আর্জেন্টিনা সম্পর্ক

সংস্কৃতি ও ফুটবলের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ় হবে বাংলাদেশ-আর্জেন্টিনা সম্পর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুমুখীকরণ, সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধি এবং ফুটবলের প্রতি পারস্পরিক ভালোবাসাকে উদযাপনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসার মধ্যে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এমপি, আর্জেন্টিনার ডেপুটি হেড অব মিশন প্যাট্রিসিও উরুয়েনিয়া প্যালাসিও এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ আমেরিকা অনুবিভাগের পরিচালক কাজী আনারকলি সহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় উভয় পক্ষ দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক বন্ধনের কথা স্মরণ করেন, যেখানে বিশেষভাবে নোবেলজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং আর্জেন্টিনার খ্যাতনামা লেখিকা ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর মধ্যকার গভীর বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরা হয়। রাষ্ট্রদূত সেসা মন্তব্য করেন যে, আর্জেন্টিনার মানুষ প্রাথমিকভাবে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্মের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে চেনে, তবে বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিভাবান লেখকদের সম্পর্কে জানার আগ্রহ সেখানে ক্রমাগত বাড়ছে। তিনি বাংলাদেশের সমসাময়িক কালজয়ী সাহিত্যকর্মগুলো স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করার অনুরোধ জানান এবং আসন্ন বুয়েনস আইরেস আন্তর্জাতিক বইমেলায় বাংলাদেশকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রদূত বাউল সম্রাট লালন শাহের আধ্যাত্মিক গানেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাঁর দর্শনকে বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করতে লালন গীতি স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আর্জেন্টিনার অনন্য সমর্থন এবং ১৯৭২ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশকে দ্রুত কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে চিরন্তন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান নতুন সরকার তাদের "বাংলাদেশ ফার্স্ট" নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে পারস্পরিক সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে আর্জেন্টিনার সাথে বহুমুখী সম্পর্ক সম্প্রসারণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক চুক্তি না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো "সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি"র খসড়াটি দ্রুত চূড়ান্ত করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই কাঠামোটি বাংলাদেশের বাউল ও লোকজ ঐতিহ্যের সাথে আর্জেন্টিনার আইকনিক ট্যাঙ্গো এবং চ্যামামে নৃত্যের মধ্যে চমৎকার সেতু বন্ধন তৈরি করবে। এছাড়া চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক মাধ্যমে নিয়মিত বিনিময়ের মাধ্যমে এই সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি স্থায়ী ও যুগান্তকারী রূপ দিতে বৈঠকের সময় আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসের একটি রাস্তার নাম বাংলাদেশের নামে রাখার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উত্থাপন করে বাংলাদেশ। পাশাপাশি দুই দেশের চমৎকার জলবায়ুগত সামঞ্জস্যের কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ আর্জেন্টিনার মাটিতে বাংলাদেশের কিছু ঐতিহ্যবাহী দেশীয় উদ্ভিদ রোপণ ও স্থানান্তরের একটি পরিবেশবান্ধব প্রস্তাবও দিয়েছে।

দুই দেশের জনগণের মধ্যকার মেলবন্ধনের ওপর আলোকপাত করে রাষ্ট্রদূত সেসা জানান যে, চলমান ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনার চারজন অত্যন্ত জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এবং ব্লগারকে বর্তমানে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হচ্ছে। এই কনটেন্ট ক্রিয়েটররা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে আর্জেন্টিনার লাখ লাখ ফুটবল ভক্তের তীব্র উন্মাদনা, ভালোবাসা এবং সংস্কৃতি নিয়ে তথ্যচিত্র তৈরি করবেন। এই সাংস্কৃতিক গতিশীলতাকে আরও বেগবান করতে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনা উভয় দেশের প্রখ্যাত শিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি জমকালো যৌথ "সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা" আয়োজনের প্রস্তাব করেন প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন