ডার্ক মোড
Friday, 10 July 2026
ePaper   
Logo
শিশু নন্দিনী হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে: ত্রাণমন্ত্রী দুলু

শিশু নন্দিনী হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে: ত্রাণমন্ত্রী দুলু

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় শিশু নন্দিনীকে হত্যা একটি অত্যন্ত নিষ্ঠুর, নির্মম ও বর্বর ঘটনা, যা কোনো সুস্থ বা স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি। একই সাথে এই জঘন্যতম অপরাধের কঠোর বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নে নিহত শিশুর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে দেখা করার পর সাংবাদিকদের কাছে মন্ত্রী এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং নিজস্ব নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে তিনি এবং লালমনিরহাটের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান ও রোকন উদ্দিন বাবুল দ্রুত এই এলাকায় ছুটে এসেছেন।

মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যেই প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং সে হত্যাকাণ্ডে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার বিষয়ে তীব্র সতর্কবার্তা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, যারা গণসহিংসতা উসকে দিয়ে, জেলা প্রশাসকসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের গাড়িতে আগুন দিয়ে এবং জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। বর্তমান সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের একটি স্থানীয় ভুট্টাক্ষেত থেকে নিখোঁজ হওয়া সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনী রানীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিধান চন্দ্র নামের এক স্থানীয় মাদকাসক্ত যুবক এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী।

মরদেহ উদ্ধারের পর অভিযুক্তের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে ক্ষুব্ধ জনতা সহিংস হয়ে ওঠে। তারা পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়ায় এবং অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিক্ষোভকারীরা জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। এই সময় জেলা প্রশাসকের সরকারি গাড়িসহ অন্তত সাতটি যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

মন্ত্রীর এই পরিদর্শনের সময় লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, রাজনৈতিক নেতা এ কে এম মোমিনুল হকসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন