বাকেরগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার আত্মসাৎ: প্রধান শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে পরিচালিত ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচিতে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। এই কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে, স্কুল ফিডিংয়ের খাবার ও উপকরণ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রানীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রেশমা আক্তারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে রবিবার এক অফিসিয়াল আদেশের মাধ্যমে ওই শিক্ষিকার কাছে ঘটনার জরুরি কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে স্কুল ছুটির পর ওই প্রধান শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের ফিডিং কর্মসূচির জন্য বরাদ্দকৃত ২৪টি ডিম এবং ২২ প্যাকেট বিস্কুট নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বিষয়টি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এই সংক্রান্ত বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশিত হলে তা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দৃষ্টিগোচর হয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের পুষ্টির জন্য বরাদ্দ করা খাবার আত্মসাৎ বা অপব্যবহারের যেকোনো প্রচেষ্টাকে কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে অধিদপ্তর।
কোমলমতি শিশুদের পুষ্টির জন্য বরাদ্দ করা সরকারি খাদ্যসামগ্রী আত্মসাৎ বা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোরতম অবস্থান বজায় রাখা হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ওই কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশে অভিযুক্ত শিক্ষক রেশমা আক্তারকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সন্তোষজনক লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপযুক্ত জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর বিভাগীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে।

