পার্বত্য অঞ্চলের প্রকল্পসমূহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এবং নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে হবে: পার্বত্য সচিব
স্টাফ রিপোর্টার
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সকল উন্নয়ন প্রকল্প কঠোরভাবে বিধিমালা অনুসরণ করে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি মাত্র স্কিমের বিপরীতে হাজার হাজার আবেদন জমা পড়লেও নির্দিষ্ট নির্দেশিকা, জনস্বার্থ এবং অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সঠিক প্রকল্পগুলো নির্বাচন করতে হবে। সুশৃঙ্খল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বরাদ্দকৃত বাজেটের মধ্যেই কাজের পরিধি নির্ধারণ করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনায় আয়োজিত এক স্টিয়ারিং কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে পার্বত্য সচিব এই নির্দেশনা দেন।
সচিব আরও উল্লেখ করেন, বাজেট বরাদ্দের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কেবল প্রকৃত জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোই গ্রহণ করা উচিত। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকল্প গ্রহণ করলে কাজের সঠিক গুণগত মান বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই অসংখ্য আবেদনের মধ্য থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সঠিক স্কিমগুলো বেছে নেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
স্টিয়ারিং কমিটির সভায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে পাঁচটি বড় প্রকল্পের অনুমোদন ও অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাজার আধুনিকায়নের জন্য খাগড়াছড়ি শহরের প্রাণকেন্দ্রে মাছ, মাংস ও সবজি বাজারের সম্প্রসারণ ও মেরামতের লক্ষ্যে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে খাগড়াছড়ি পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডে 'খাগড়াছড়ি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ' ভবন নির্মাণ এবং জেলা সদরের মহিলা কলেজ রোড সংলগ্ন এলাকায় 'খাগড়াছড়ি ইংলিশ ভয়েস স্কুল' প্রতিষ্ঠার জন্য মোট ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ধর্মীয় উপাসনালয় সংস্কারের জন্য দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া বৌদ্ধনীতি, বারাদাম ও বাঘাইছড়িসহ আটটি বৌদ্ধ বিহারের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে মোট ২ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সমগ্র খাগড়াছড়ি জেলায় দুস্থ নারীদের স্বাবলম্বী করতে মহিলা সমিতির মাধ্যমে গরু, ছাগল ও শুকর বিতরণের জন্য ১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব অতুল সরকার, উপ-সচিব মোহাম্মদ শামসুল হক, উপ-সচিব মো. সালাহউদ্দিন এবং খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াছ মেহেদী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পরিকল্পনা বিভাগ, অর্থ বিভাগ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জুম (Zoom) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি এই পর্যালোচনা সভায় যুক্ত হন।

