ডার্ক মোড
Wednesday, 30 September 2026
ePaper   
Logo
অ্যাটলান্টিক সিটিতে স্থায়ী শহীদ মিনার উদ্বোধন, স্থানীয় কমিউনিটিতে বিতর্ক

অ্যাটলান্টিক সিটিতে স্থায়ী শহীদ মিনার উদ্বোধন, স্থানীয় কমিউনিটিতে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

আমেরিকার নিউ জার্সির অ্যাটলান্টিক সিটির টেক্সাস এভিনিউ পার্কে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার উদ্বোধন করা হয়েছে। স্থানীয় বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়ের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক মাইলফলক হলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে হট্টগোল ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্মারক মিনারটি অ্যাটলান্টিক সিটি কাউন্সিলম্যান জর্জ অ্যানিম্যালস ক্রাউচ, সিটির মাল্টিকালচারাল ডিপার্টমেন্ট এবং স্থানীয় অলাভজনক সংস্থা ‘ডাকটাউন নেইবারহুড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (সিডিসি)’-এর সহায়তায় নির্মিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ খরচ হিসেবে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন ডলার প্রদান করে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল ৫টায় অ্যাটলান্টিক সিটির মেয়র মার্টি স্মল জুনিয়রের উপস্থিতিতে ফিতা কেটে শহীদ মিনারটি উদ্বোধনের কথা ছিল। তবে ব্যক্তিগত কারণে মেয়রের অনুপস্থিতির ফলে ফোর্থ ওয়ার্ড কাউন্সিলম্যান জর্জ অ্যানিম্যালস ক্রাউচ এবং স্থানীয় কমিউনিটি সদস্য বিশ্বনাথ চৌধুরী উপস্থিত বাংলাদেশি অধিবাসীদের সাথে নিয়ে যৌথভাবে শহীদ মিনারটির উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনের পর কাউন্সিলম্যান ক্রাউচের পরিচালনায় এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে অনুষ্ঠান চলাকালে আয়োজকবৃন্দ এবং সিটির মাল্টিকালচারাল ডিপার্টমেন্টের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তা মিল্টন চৌধুরী কেবল দুটি স্থানীয় সংগঠনের প্রতিনিধিদের বক্তব্য দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান এবং অন্যান্য বাংলাদেশি সংগঠনের নেতাদের বাদ দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডা ও বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত হয়।

এই বঞ্চনার প্রতিবাদে ‘বেঙ্গল ক্লাব’-এর প্রায় ৫০ জন কর্মী ও সদস্য অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পার্কে মোতায়েনকৃত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করার পরিবেশ তৈরি করেন। অপ্রীতিকর এই বিরোধ চলার সময় সিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনগুলোর নেতাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ঘটে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অ্যাটলান্টিক সিটি পুলিশ চিফ জেমস সারকোস, ডেপুটি চিফ মাইকেল জেলিংগার, কাউন্সিলম্যান কলিম শাবাজ, কাউন্সিলউইমেন মারিয়া লাকা, কাউন্সিলম্যান-অ্যাট-লার্জ সোহেল আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলম্যান আনজুম জিয়া এবং বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব অব অ্যাটলান্টিক সিটির সভাপতি আকবর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটলান্টিক সিটি স্কুল বোর্ডের সদস্য সুব্রত চৌধুরী ও ফারহাদ সিদ্দীকি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম খোকা, বেঙ্গল ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আরিফ মাহমুদ লিমন ও সাধারণ সম্পাদক কাজল বারুই, বাংলাদেশ আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি মো. রহমান বাবুল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাটলান্টিক কাউন্টির সভাপতি মো. শহীদ খান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মাস্টার্স অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ভূঁইয়া, এশিয়ান আমেরিকান সোসাইটির সভাপতি ও প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহীন এবং ডাকটাউন সিডিসি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি মাইকেল ক্যাগনো।

অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ডাকটাউন সিডিসি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি মাইকেল ক্যাগনো ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং স্থানীয় বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য এই শহীদ মিনার নির্মাণে সহযোগিতা করতে পেরে গর্ব প্রকাশ করেন।

উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে ছিল জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিটের নীরবতা পালন এবং নবনির্মিত শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ।

অ্যাটলান্টিক সিটিতে স্থায়ী শহীদ মিনার উদ্বোধন, স্থানীয় কমিউনিটিতে বিতর্ক
অ্যাটলান্টিক সিটিতে স্থায়ী শহীদ মিনার উদ্বোধন, স্থানীয় কমিউনিটিতে বিতর্ক
অ্যাটলান্টিক সিটিতে স্থায়ী শহীদ মিনার উদ্বোধন, স্থানীয় কমিউনিটিতে বিতর্ক
অ্যাটলান্টিক সিটিতে স্থায়ী শহীদ মিনার উদ্বোধন, স্থানীয় কমিউনিটিতে বিতর্ক
অ্যাটলান্টিক সিটিতে স্থায়ী শহীদ মিনার উদ্বোধন, স্থানীয় কমিউনিটিতে বিতর্ক

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন