নাঃগঞ্জে চোখে অস্ত্র ঠেকিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, নারায়ণগঞ্জ
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা ইট,বালু, সিমেন্ট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। কয়েক দফা সংঘর্র ঘটনাও ঘটেছে। যার শেষ পরিণতি স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মামুন হোসাইনকে (৪০) গুলি করে হত্যা। এ ঘটনায় ফতুল্লা থানার পূর্ব লালপুর (পাকিস্তান খাদ) রেললাইন ও আশপাশ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছি।
জানাগেছে, ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মামুন হোসাইনকে (৪০) ডানচোখে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত সাড়ে ৪টার দিকে ফতুল্লার পূর্ব লালপুর রেললাইনের ওপর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত মামুন ফতুল্লা পূর্ব লালপুর রেললাইনের পাশে মৃত সমন আরী বেপারীর ছেলে। তিনি ইট-বালু ও সিমেন্টের ব্যবসা করতেন।
নিহত মামুনের প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আজাদ মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার বালু, ইট লোড-আনলোড করে রাত ২টায় বাসায় চলে যান মামুন। তিনি আবার রাত সাড়ে ৪টায় প্রতিষ্ঠানের সামনে এসে দাঁড়ান। ওই সময় অনেকগুলো গুলির শব্দ শুনতে পাই। পরে আমরা দৌড়ে গিয়ে দেখি নিচে পড়ে আছেন মামুন। তখন দুই যুবক (আনুমানিক ২৬/২৮ বছরের) দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে গুলিবিদ্ধ মামুনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
নিহতের পরিবারের দাবি, আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন হাজীর দুই ছেলে আক্তার ও সুমন এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত। বেশ কয়েক মাস ধরেই মামুনকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন আক্তার ও সুমন।
মামুনের বড় ভাই আমজাদ হোসেন বলেন, মামুন বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। তাকে কে বা কারা বাসা থেকে ডেকে রেললাইন-সংলগ্ন মামুনের মালিকানাধীন মা-বাবার দোয়া নামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে নিয়ে যায়। সেখানেই মামুন গুলি করে পালিয়ে যায় ঘাতকচক্র।
তার দাবি, আলাউদ্দিন হাজীর দুই ছেলে আক্তার ও সুমন বাহিনীই এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত। বেশ কয়েক মাস ধরেই মামুনকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল এই চক্রটি।
এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল মিয়া বলেন, নিহত মামুন ইট-বালু ও সিমেন্টের ব্যবসা করতেন। প্রতি রাতে এসব লোড-আনলোডের সময়ে উপস্থিত থাকেন তিনি। রাত সাড়ে ৪টায় তাকে ফোন করে ডেকে আনা হয়। ওই সময় তাকে গুলি করা হয়। তার ডান চোখে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স নির্বাচন ১৯ পরিচালক বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত
সাতজন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালনা পর্ষদের ১৯ জন পরিচালক পদপ্রার্থীকে। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচন বোর্ডের সভা শেষে এই ঘোষণা আসে। এই ১৯ জন পরিচালকের মধ্য থেকে পরবর্তীতে সভাপতি ও দু’জন সহ-সভাপতি নির্বাচিত হবেন।
এর আগে, গত বুধবার নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের (২০২৫-২৭) নির্বাচনে সাতজন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন জেনারেল গ্রুপের মাসুদুজ্জামান, রতন কুমার সাহা, মোহাম্মদ বজলুর রহমান, মো: আব্দুল হাই রাজু, মাহফুজুর রহমান খান (মাহফুজ) ও এম নাসির উদ্দীন এবং অ্যাসোসিয়েট গ্রুপের মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।
শেষ দিনে তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়ায় নির্বাচনের আর প্রয়োজন হয়নি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালকদের নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
এক বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সচিব হাবিবুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার নির্বাচন বোর্ডের সভায় ১৯ জন প্রার্থীকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রবীর কুমার সাহা, সদস্য মাহমুদ হোসেন, সদস্য স্বপন চৌধুরী ও নির্বাচন বোর্ডের সচিব হাবিবুর রহমান।
জেনারেল গ্রুপে নির্বাচিতরা হলেন মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, মোহাম্মদ আবু জাফর, মাহবুবুর রহমান স্বপন, রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, গোলাম মুহাম্মদ কায়সার, মো: সোহাগ, মো: গোলাম সারোয়ার (সাঈদ), মো: মজিবুর রহমান, হোসেন মোহাম্মদ তানিম তৌহিদ, আহমেদুর রহমান তনু, মো: হানিফ মিয়া, আব্দুল্লাহ আল-মামুন।
অ্যাসোসিয়েট গ্রুপে রয়েছেন মো: মোরশেদ সারোয়ার, সোহেল আক্তার, খন্দকার সাইফুল ইসলাম, আশিকুর রহমান, মোহাম্মদ জাকারিয়া ওয়াহিদ, মোস্তফা এমরানুল হক এবং ট্রেড গ্রুপে শ্রী বিকাশ চন্দ্র সাহা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

