Dark Mode
Saturday, 20 June 2026
ePaper   
Logo
৩ বছর ধরে পরে রয়েছে কালভার্ট নির্মাণ  জলে যাচ্ছে সরকারের ৭৩ লাখ টাকা

৩ বছর ধরে পরে রয়েছে কালভার্ট নির্মাণ জলে যাচ্ছে সরকারের ৭৩ লাখ টাকা

 

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার বেতাগীতে ফসল রক্ষা বাঁধের খালের ওপর ৩ বছর ধরে পরে রয়েছে কালভার্ট (দুই ভেল্ট পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো)। এতে জলে যাচ্ছে সরকারের ৭৩ লাখ

টাকা আর কাজ শেষ না হওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে কৃষকরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারের অবহেলার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি

হয়েছে।

তাছাড়া বার বার সময় বাড়িয়ে দিয়েও কোন কাজ হয়নি। কালভার্টটির নির্মাণকাজ কখন শেষ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কাজের

মন্থর গতির কারনে সহসা কৃষকের এ দুর্ভোগ শেষ হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা কৃষি বিভাগ ও বিএডিসি জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কৃষি বিভাগের স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেসন প্রজেক্ট (এসএসিপি)‘র অধীনে ও জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা, 

আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ)‘র সহযোগিতায় ২০২১— ২০২২ অর্থ বছরে উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নের গাবুয়া ফুলতলাএলাকায় ফসল রক্ষা বাঁধে ৭৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দুই ভেল্ট পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো (কালভার্ট) ও রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমে ফসলের ক্ষেতে সেচের পানির অভাব আর বর্ষায় অতি বৃষ্টির কারনে ক্ষেতে জলাবদ্ধতা থাকায় বছরের পর বছর ধরে

চলছিলো কৃষকের আহাজারি। এ সমস্যার উত্তরনে কৃষকের সোনালী সুদিন ফেরানোর আশায় স্থানীয় কৃষকদের দাবির প্রেক্ষিতে উপজেলার বিবিচিনি

ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকার কৃষকরা সেচ সুবিধার জন্য বিষখালী নদীরতীর ঘেষে ২০০ একর জমিবিশিষ্ট ফুলতলা চরের খালের উপর কালভার্ট (দুই ভেল্ট পানি

নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো) নির্মাণ মঞ্জুর করেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)।

বিবিচিনি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রিয়াজ হোসেন সিকদার অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একাধিকবার প্রতিশ্রম্নতি দিলেও তার অবহেলায় দীর্ঘদিন ধরে কালভার্ট নির্মাণ কাজ

সম্পন্ন না হওয়ায় কৃষকরা প্রকল্পের কোন ধরনের সুফল পাচ্ছেন না।  এ কাজটি পান ঢাকার বাসিন্দা মো: সুজনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

মেসার্স মোহাম্মদ বিল্ডার্স। তবে তার প্রতিনিধি ও সাব ঠিকাদার হিসাবে মাদারীপুরের বাসিন্দা লোকমান হোসেন কাজটি বাস্তবায়ন করেন। আঞ্চলিক নির্বাহী প্রকৌশলী ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারীরকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে বারংবার মৌখিক ও লিখিত নিদের্শনা দেন। সরজমিনে দেখা গেছে, ফসল রক্ষা বাঁধের উপড় দুই ভেল্ট পানি নিয়ন্ত্রণ

অবকাঠামো নির্মাণ কাজ পড়ে আছে। অযত্ন ও অবহেলায় খালের ভেতরে ভীত তৈরির কাজে ব্যবহৃত ও কচুরিপানায় আবৃত রডগুলো যেন আকাশপানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। মরিচিকা ধরে এসব দিনে দিনে যেন শেষ হয়ে যাচ্ছে।এসময় কথা বলতে গিয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন সেখানকার কৃষকরা। সুফল বঞ্চিত কৃষকদের জিজ্ঞাসা তাদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন মুল ঠিকাদার?

এমনকি কাজের শুরু থেকেই সংশ্লিস্টদের মৌখিক তাগিদ ও লিখিত নিদের্শনা দেওয়ার পরেও ঐ ঠিকাদারের খুঁটির জোর কোথায় যার ফলে দীর্ঘদিনেও কাজটি সম্পন্ন করছেন না ?

একটি সূত্র জানায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোহাম্মদ বিল্ডার্স মো: সুজন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিমের একান্ত ঘনিষ্ট লোক ছিলেন। সেই সুবাদে তিনি অনেকটি কাজ ভাগিয়ে নেন।

তবে কথা বলতে চাইলে দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি মুল ঠিকাদার মো: সুজনকে। ৫ আগষ্টের পর থেকে ঠিকাদার লাপাত্তা হওয়ায় তার সাথে অধ্যাবধি যোগযোগ করা সম্ভব হয়নি। কবে নাগাদ কাজ শেষ করবেন কৃষকদের এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি তার প্রতিনিধি সাব ঠিকাদার লোকমান হোসেনও। লোকমান হোসেন বলেন,‘জানিনা কাজ কবে নাগাদ আবার শুরু করতে

পারবো। ঠিকাদার বিলের বড় একটি অংশ উত্তোলন করে তার পাওনাদি না দিয়েই তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। আমিও তার প্রতারনার শিকার হয়ে নি:স্ব হয়ে গেছি।’

নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে আরও বিলম্বিত হলে সরকারের লাখ লাখ টাকা জলে যাবে এমনটাই মনে করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নওয়াব

হোসেন নয়ন। তিনি বলেন, ‘ কাজ শুরুর সময় কর্মকর্তারা বলেছিলেন খুব শিগগিরই তা শেষ হবে। আমরা জানি না কাজ শেষ হতে কত সময় লাগবে।

কাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।’ 

 

একাধিক কৃষকরা জানান, গাবুয়া ফুলতলা এলাকায় রক্ষা বাঁধে  বিএডিসির দুই ভেল্ট পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো (কালভার্ট) নির্মাণ  করলে অন্তত ২০০ একর জমিতে তিন বার ফসল ও সবজি ফলানো সম্ভব হবে। এ বিষয়ে বেতাগী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানজিলা আহমদ বলেন, পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো (কালভার্ট)টি নির্মাণ হলে জলবায়ূর প্রভাবে

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষি ও কৃষকের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও পুষ্টি বিকাশে ও লোনা পানি থেকে ফসল রক্ষা পাবে। সেই সাথে এখানকার গোটা এলাকার যাতায়াত, ধান ও ডাল আবাদ, তরমুজ চাষ, বেগুন, লাউ ও লাল শাক সহ বিভিন্ন সবজি চাষের জন্য পানি নিস্কাশনের সুবিধা হবে। আর এভাবে দিনের পর দিন কালভার্টটি পরে থাকলে প্রকল্পের সুবিধা কোনো কাজে আসবে না।

উপজেলার ফুলতলা গ্রামের কৃষানী নাজমা বেগম বলেন,‘আমাদের ফসলের মাঠে একটু বৃষ্টি হলে ও বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকে কিন্তু বর্ষা মৌসুম পুরোদমে শুরু হওয়ার আগে মাঠের পূর্বপ্রান্তে কালভার্ট নির্মাণ হলে এই সমস্যা থেকে আমরা চিরদিনের জন্য মুক্তি পেতাম।’ উপজেলার গড়িয়াবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা তরমুজ চাষী মো: রবিউল জানান, অনেক স্বপ্ন নিয়ে গত ৩ বছর ধরে ৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করে আসছেন। কিন্ত ফসল রক্ষা বাঁধের পূর্ব দিকে নির্মাধীন দুই ভেল্ট পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোর কাজটি এখনো শেষ না হওয়ায় অসময়ে খেত পানিতে তলিয়ে গিয়ে প্রতিবছর অপূরণীয় ক্ষতির মুখে স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে গেছে। শুধূ রবিউলই নয়, মো: ফোরকান সহ আরও একাধিক কৃষককে

প্রতিবছর এভাবে চরম দুর্ভোগে পরতে হচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (সেচ)‘র বেতাগী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বরত সহকারী প্রকৌশলী মো: তারেকুল ইসলাম জানান, ঠিকাদারকে

কাজটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য একধিকবার বলা হয়েছে। কিন্ত তিনি মৌখিকভাবে কাজ শুরুর কথা দিলেও অদ্যাবধি কাজটি সম্পন্ন করছেন না।

অবশেষে বিষয়টি পটুয়াখালী আঞ্চলিক নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার ঢাকায় উর্ধতন কতৃর্পক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্ত এখনো তার সদুত্তোর

পাওয়া না গেলেও আশা করি দ্রুতই এর সমস্যার সমাধান হবে। বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো: ইকবাল

হোসেন জানান, এসএসিপি প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে তাদের বড় ধরনের কোন ভ’মিকা নেই। কৃষি বিভাগ শুধূ মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

অবশ্য কাজটি আরও আগেই বাস্তবায়নের কথা ছিলো। কিন্ত এখনো কাজ  শেষ না হওয়াটা খুবই দু:খজণক।

 

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (সেচ)‘র পটুয়াখালী আঞ্চলিক নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোশারেফ হোসেন বলেন,‘কাজ শুরুর পর থেকে একাধিকবার ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে মৌখিক ও লিখিতভাবে তাগিদ এবং নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যা প্রকল্পের পিডি মহোদয়কেও অবহিত করা হয়েছে। নতুন করে কাজ শুরু না করলে উর্ধতন

কর্তৃপক্ষের নিদের্শনানুযায়ী চ’ড়ান্ত নোটিশ দিয়ে ঠিকাদারের চুক্তি বাতিলসহ সব ধরনের ব্যববস্থা নেওয়া হবে।’ বেতাগী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: বশির গাজী বলেন,‘অবহেলা ও

গাফেলতি করে ঠিকাদারের কাজ ফেলে রাখার কোন সুযোগ নেই। সংশ্লিস্ট বিভাগে খোঁজ নিয়ে আমি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখব। যাতে কাজটি আর পরে না থাকে, দ্রুত সম্পন্ন হয়।’

Comment / Reply From

You May Also Like

Vote / Poll

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

View Results
হ্যাঁ
0%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%

Archive

Please select a date!