Dark Mode
Saturday, 20 June 2026
ePaper   
Logo
সোহরাব হোসেনের মরণোত্তর মুক্তিযোদ্ধার সম্মাননা ও সনদ চায় সহযোদ্ধারা

সোহরাব হোসেনের মরণোত্তর মুক্তিযোদ্ধার সম্মাননা ও সনদ চায় সহযোদ্ধারা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সোহরাব হোসেন খন্দকার রঞ্জু একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও গ্রহণ করেননি মুক্তিযোদ্ধার সনদ।

তালিকাতেও নেই তার নাম। তবে স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া সহযোদ্ধাসহ অনেকেই দাবি করছেন সোহরাব হোসেন খন্দকার রঞ্জু একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

তবে যখন বুঝলেন মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ ব্যতিত তার অর্জন মূল্যহীন তখন আবেদন করলেও তালিকাতে ওঠেনি তার নাম। অবশেষে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ছাড়াই গত ২৪ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন সোহরাব হোসেন খন্দকার রঞ্জু।

তার জানাজায় অংশগ্রহণ করেন তার অনেক সহযোদ্ধা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার সেক্টর কমান্ডার শহীদুল্লাহ প্রধান। তিনি বলেন, ‘সোহরাব হোসেন একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। তার মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট না পাওয়া ও সরকারি সম্মাননা না পাওয়া খুবই দুঃখজনক। তিনি আমার অধীনেই যুদ্ধ করেছেন সে একজন দক্ষ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। এছাড়াও তার দুই চাচাতো ভাইকে তিনি তার সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহণ করতে নিয়ে যান তারাও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছে। এছাড়াও তার ক্যাম্পের (মুজিব বাহিনী) সকল সহযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রত্যায়ন পত্র আমাদের হাতে এসেছে। তাহার মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট না পাওয়ায় তাঁর সহযোদ্ধারা দুঃখ প্রকাশ করেন।’
তাঁর সহযোদ্ধা ও চাচাতো ভাই খয়বর হোসেন খন্দকার বলেন, ‘তিনি একজন গর্বিত মুজিব বাহিনীর সদস্য ছিলেন ১৯৭১ সালে ভারতের ‘দেরাদুন’ ক্যাম্পে ৫৬ দিনের প্রশিক্ষণ নেন। তারপরে ২৬ আগস্ট ১৯৭১ তিনি মুজিব বাহিনী কমান্ডার অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ্ প্রধানের অধীনে দই খাওয়া অস্থায়ী ক্যাম্পে যোগ দেন। যুদ্ধের শেষদিন পর্যন্ত তিনি ৬ নং সেক্টরে মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করেছিলেন। সে সময় তিনি বুয়েটে ইঞ্জিনিয়ারিং এ থার্ড ইয়ারে পড়তেন।

যেহেতু তিনি বুয়েটে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন তাই তাকে মুক্তিযুদ্ধে রেডিও সিগন্যাল এবং এক্সপ্লোসিভের ওপর বিশেষভাবে ট্রেনিং দেয়া হয়। যুদ্ধের পরে তিনি পুনরায় পড়াশোনায় ফিরে যান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন এবং ২০০০ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে সময়ের আগেই অবসর গ্রহণ করেন। যে সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ প্রদান ও যাচাই-বাচাই করা হয় সে সময় সোহরাব হোসেন খন্দকার রঞ্জু বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দেশ-বিদেশে তার ডিউটি থাকার কারণে তালিকা করার সময় উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি। তাই ওই সময় তিনি বাদ পড়েন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে। পরবর্তীতে আবার তিনি আবেদন করেন, কিন্তু বিভাগীয় জেলা থেকে পাশ হয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এসে তার কাগজপত্র আটকিয়ে যায়।

অনেক সহযোদ্ধাদেরই দাবি সোহরাব হোসেন খন্দকার রঞ্জু দেশের একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তাই তাকে যেন মরণোত্তর সম্মাননা ও স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

Comment / Reply From

Vote / Poll

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

View Results
হ্যাঁ
0%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%

Archive

Please select a date!