শ্রীমঙ্গলে মনিপুরীদের রাধাকৃষ্ণ নৃত্য দিয়ে শেষ হলো ঐতিহাসিক হারমোনি ফেস্টিভ্যাল, ভাঙলো মিলনমেলা
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মনিপুরীদের রাধাকৃষ্ণ নৃত্য দিয়ে শেষ হলো ঐতিহাসিক ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’, ভাঙলো মিলনমেলা। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এলাকার ২৬ টি নৃ-জাতি গোষ্ঠী তাদের জীবন ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে একমঞ্চে হাজির ছিল গত তিনদিন।
রবিবার সন্ধায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সমাপনী বক্তব্যের পর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক সালেহা বিনতে সিরাজ বলেন, ‘২০২৬ সালের জানুয়ারীর শেষ সপ্তাহে আরো গোছালো এবং বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে এঅঞ্চলের নৃ-জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির এ উৎসব।'
গত শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) বিকালে শ্রীমঙ্গলের কাকিয়াছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই উৎসব উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলেছে উৎসব। এখানে স্থানীয় বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন উপকরণের মেলাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১২ জানুয়ারি) বিকালে উৎসব প্রাঙ্গণে শ্রীমঙ্গলের ইত্তেফাকে সাবেক প্রতিনিধি ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি’র সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ নেসার আহমদ বলেন, ঐতিহাসিক এই মেলবন্ধন যেন তিনদিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে যায়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও আয়োজকদের ২৬টি নৃ-গোষ্ঠী নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী কিছু উদ্যোগ নিতে হবে। এমন মিলনমেলা বিরল! এ থেকে আমাদের নতুন পরিকল্পনা করতে পারলে ক্ষুদ্র নৃ-জাতি গোষ্ঠীর কাজে আসবে, উৎসবের ধারাবাহিকতা সার্থক হবে।
পর্যটন শিল্পকে বিকাশিত করতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তিনদিনের ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ আয়োজন করা হয়। উৎসবে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে বসবাসরত ২৬টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তাদের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ও জীবনচর্যার বিষয়সমূহ উৎসবে উপস্থাপন করেছে।
উৎসবের শেষদিন চা-জনগোষ্ঠীর মুন্ডা অধিবাসীর মুন্ডারী নৃত্য, এরপর দুপুরে বুনার্জীদের উড়িয়া ভজন, গড়াইত নৃত্য, রাজবল্ববদের উড়িয়া নৃত্য, শবরদের পত্র সওরা নৃত্য, ঝুমুর নৃত্য, কুই নৃত্য, লাগরে নৃত্য, ওড়াও নৃত্য, জুম নৃত্য, গারোদের সেরেনজিং নৃত্য, বৈশ্য নৃত্য, খাসি দলীয় নৃত্য, ধামাইল নৃত্য, গারোদের মান্দি নৃত্য এবং সবশেষে মনিপুরীদের রাধাকৃষ্ণ নৃত্য দিয়ে উৎসব শেষ হয়।
Comment / Reply From
You May Also Like
Latest News
Vote / Poll
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

