রায়পুরে চুরি করতে গিয়ে ঘুমন্ত নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা, টাকা-স্বর্ণালংকার লুট
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চুরি করতে গিয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ধর্ষণ চেষ্টা এবং টাকা-স্বর্ণালংকার লুটে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় (২ জুন) রোববার রাতে ওই নারী বাদি হয়ে স্থানীয় চার যুবককে আসামি করে রায়পুর থানায় মামলা করেছেন।
অপরদিকে-দক্ষিন চরবংশী ইউপির কারিমিয়া আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দা ও স্থানীয় বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে স্থানীয় দুই যুবক গনধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৃথক এ ঘটনায় রায়পুর থানায় চারজনকে আসামী করে গণধর্ষণ মামলা করেছে ছাত্রীর মা।
শনিবার রাতে (১ জুন)) সন্ধায় এবং রাত ২টার সময়ে রায়পুর উপজেলার দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া গ্রামে পৃথক স্থানে এসব ঘটনা ঘটেছে।
আশ্রয়কেন্দ্রের কিশোরীর মায়ের দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিন চরবংশী ইউপির চরলক্ষি গ্রামের হাজিমারা এলাকার কারিমিয়া আশ্রায়নকেন্দ্রের কৃষকের কিশোরী মেয়ে ও নবম শ্রেণীর ছাত্রীকে (১৫) শনিবার সন্ধায় মোমবাতি কেনার জন্য দোকানে যায়। এসময় আগে থেকেই আশ্রয়কেন্দ্রের পাশে ওঁৎ পেতে থাকে স্থানীয় চার যুবক আমজাদ, লিমন, আলআমিন ও শাকিল।
মেয়েটিকে আমজাদ মারধর করে গলায় ছুড়ি ধরে সিএনজিতে তুলে আল আমিনের বাড়ীতে নিয়ে যায়। পরে দুইজনের পাহাড়ায় ওই ঘরেই লিমন ও আলআমিন পরপর গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ আনা হয় ।
এই ঘটনায় রাত ৩টায় মেয়েটির মা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিয়ে জানালে তারা রায়পুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠায়। পরে মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে চারজনের নামে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়। (২ জুন) রোববার দুপুরে মেয়েটিকে সদর হাসপাতালে পরীক্ষার পর আদালতে বিচারকের কাছে জবানবন্ধি দেন।
কিশোরীকে গণধর্ষণ মামলার আসামিরা হলেন, স্থানীয় কালু বেপারির হাট এলাকার জলিল মাস্টারের ছেলে মোঃ লিমন (২০), সৌদি প্রবাসি খোকা বেপারির ছেলে এক সন্তানের জনক আলআমিন (২৫), কৃষক মানিক বেপারি ছেলে আমজাদ (২০), নাসির ঢালির ছেলে বিবাহিত মোঃ শাকিল (২২)।মেয়েটির মা কেঁদে কেঁদে বলেন, আমরা গরিব মানুষ। আমি ও
আমার স্বামী চরে দিনমজুরের কাজ করি। মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় সমাজের কাছে বিচার পাইনি। থানায় মামলা করেছি। আমি এঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।
এদিকে- প্রবাসীর স্ত্রী জানান, প্রতিদিনের ন্যায় ওই রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। এ অবস্থায় তার ঘরের সামনের দরজা দিয়ে সিঁদ কেটে প্রবেশ করে একই গ্রামের জালাল সর্দারের ছেলে দিদার সর্দার, গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মনির হোসেন, বোরহানের ছেলে মোঃ রাসেল, হোসেন আলীর ছেলে হেলাল।
এ সময় তারা চারজন ওই নারীকে হাত ও মুখ বেঁধে ফেলে। এ সময় ঘরে থাকা ৩০ শতাংশ জমি রেজিষ্ট্রেশান করার আড়াই লাখ টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণালংকার লুটে নেয় তারা। পরে তারা চারজন গৃহবধুকে গণধর্ষণের চেষ্টা করে। বাড়ীর পাশের ইটভাটার লোকজন এগিয়ে আসলে স্থানীয় চোরের দল পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় দিদারের মা কুলসুম বেগম বলেন, এলাকার কয়েকটি বখাটে ছেলেদের সাথে চলে আমার ছেলে বখাটে হয়ে গেছে। মনিরের মা লাকি বেগম, রাসেলের মা রাসিদা বেগম ও হেলালের মা জলেখা বেগম বলেন, আমাদের ছেলেরা ভূল করে এঘটনা ঘটায়।
কিশোরী গণধর্ষণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (এস আই) সুরোজিত বড়ুয়া জানান, দুইজনের পাহাড়ায় দুইজন গণধর্ষণ ধর্ষণ করেছে বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে মেয়েটি।
রায়পুর থানার ওসি ইয়াসিন ফারুখ মজুমদার জানান, প্রবাসীর স্ত্রী ধর্ষণ চেষ্টা ঘটনায় থানায় এজাহার দিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রের কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছো। এখনও কাউকে আটক করা হয়নি। এসব ঘটনায় তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Latest News
Vote / Poll
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

