মতিঝিলে গাড়ির চাপ বেড়েছে, মাস্কহীন চলাফেরায় গুণতে হচ্ছে জরিমানা
নিজস্ব প্রতিবেদক
করোনাভাইরাস মহামারি ঠেকাতে সারাদেশে চলছে কঠোর বিধিনিষেধ। এবার বিধিনিষেধ কার্যকরে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। সোমবার (৭ জুলাই) রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় এমন কড়াকড়ির একটি চিত্র দেখা গেল। সরেজমিনে দেখা গেছে, মাস্কবিহীন কাউকে পেলেই জরিমানা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
মহামারিতে জনসম্মুখে মাস্ক পরার উপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই কেউ মাস্ক না পরে চলাচল করলে তাকে তাৎক্ষনিক আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ১০টা থেকে সকাল সাড়ে দশটা পর্যন্ত মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় ৩০ মিনিট ধরে চলমান ভ্রাম্যমাণ আদালত বেশ কয়েকজন পথচারীকে মাস্ক ব্যবহার না করায় জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। মাস্ক না পরার অপরাধে তাদের ২০০ থেকে ৫০০ টাকা জরিমানা গুনতে হয়। এই সময় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনীষা রাণী কর্মকার। এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মাস্ক না পরে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর কারণে আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে। অনেকে পকেটে কিংবা হাতে মাস্ক রেখে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এভাবে মাস্কবিহীন যারা ঘুরে বেড়াচ্ছেন আমরা তাদের আইন অনুযায়ী জরিমানা করছি।’
মাস্ক না পরায় জরিমানা দিয়েছেন তানিম। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে পিয়ন পদে কাজ করি। গরমের কারণে মাস্ক না পরে পকেটে রাখায় আমাকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আমি জরিমানা পরিশোধ করায় আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
একই অপরাধে ব্যবসায়ী জামাল হোসেনকে ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এদিকে টানা চার দিন বন্ধ থাকার পর সোমবার ব্যাংক, বিমা ও পুঁজিবাজার খোলে যাওয়ায় বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের বিভিন্ন সড়কে ব্যক্তিগত যানবাহন, রিকশা ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন সকাল থেকেই সড়কে রিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অফিস স্টাফ বাস, পণ্য পরিবহনের গাড়িসহ রাস্তায় যানবাহনের ব্যাপক চাপ লক্ষ্য করা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির চাপ বাড়তে থাকে। গাড়ির চাপের কারণে চেকপোস্টগুলোতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের।
সোমবার সকালে ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর মতিঝিল, নয়াপল্টন, বিজয়নগর, কমলাপুর, পুরানা পল্টন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই পুলিশ টহল অব্যাহত রয়েছে। তবে রাস্তায় প্রচুর লোকজনও চলাফেরা করছেন। অন্যদিনের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যাও বেশি।
মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক মো. রাজিব সারাবাংলাকে বলেন, ‘সকাল থেকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মতিঝিল এলাকায় লকডাউন কার্যকর করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি মতিঝিল এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে সহায়তা করার পাশাপাশি সার্বিক বিষয় তদারকি করছি। আজ অন্য দিনের তুলনায় যানবাহন বেশি হলেও বিনা প্রয়োজনে কোনো গাড়ি বের হলে ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ব্যাংক খোলা থাকায় লোকজনের উপস্থিতি কিছুটা বেড়েছে।’
অন্যদিকে মতিঝিল নটরডেম কলেজের সামনে পুলিশের চেকপোস্ট পরিচালনাকারী ট্রাফিক সার্জেন্ট শাহরিয়ার কবির রানা সারাবাংলাকে বলেন, ‘আজ ব্যাংক, বিমাসহ বেশ কিছু অফিস খোলা থাকায় রাস্তায় প্রচুর গাড়ি নেমেছে। তবে কোনো গাড়ি বিনা প্রয়োজনে বের হলে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
Comment / Reply From
You May Also Like
Latest News
Vote / Poll
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

