বঙ্গবন্ধু বক্তৃতামালায় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বঙ্গবন্ধু ক্ষমা করেননি : বক্তারা
নিজস্ব প্রতিবেদক
মুক্তিযুদ্ধে যারা ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও হত্যায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাহায্য করেছিল তাদেরকে বঙ্গবন্ধু ক্ষমা করেননি বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন তার নিজের সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে। মুক্তিযুদ্ধকালে যারা হত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটের সঙ্গে যুক্ত ছিলো- তাদের বাদে তিনি বাকিদের ক্ষমা করেছিলেন। সেটিকে বিকৃত করে একটি মহল কুৎসা রটাচ্ছে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে গতকাল সোমবার রাতে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম জুমে 'শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু' শীর্ষক বঙ্গবন্ধু বক্তৃতামালার পঞ্চম পর্বের আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস এন্ড লিবার্টির পরিচালক অধ্যাপক ড. ফকরুল আলমের সভাপতিত্বে এবং রিসার্চ ফেলো হাসান নিটোলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান। 'শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু' শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো রফিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যকার দ্বন্ধ, স্বাধীনতা বিরোধীদের অপতৎপরতা, অতি বাম ও ডান পন্থীদের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের ফলশ্রুতিতে বঙ্গবন্ধু সংগ্রামী ও মুক্তিকামী নেতা হিসেবেও সোনার বাংলা গঠনে সফল হতে পারেননি, ঘাতকরা তাঁকে সোনার বাংলা গড়তে দেয়নি। এটা ইতিহাসের নির্মমতা ও বাঙালি জাতির জন্যে দুর্ভাগ্যের বিষয় । তিনি এসকল অপতৎপরতাকে সমূলে ধ্বংস করে একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে হাত দিয়েছিলেন ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ ঘোষণার মধ্যে দিয়ে। দ্বিতীয় বিপ্লব দেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা, শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন আনয়নের পন্থা হিসেবে বঙ্গবন্ধু জাতির সামনে উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিপ্লব ছিল শান্তি প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ। এ বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যবস্থা করা হয় যেখানে সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল। এটাকে অন্যভাবে একটি ফ্রেমে ‘বহুত্ববাদী গণতন্ত্র’ বলে অবহিত করা যায়। অংশগ্রহণ মূলক ও প্রতিনিধিত্ব মূলক সরকার জনগণের মৌলিক অধিকারকে বেশি নিশ্চয়তা প্রদান করে। এ দ্বিতীয় বিপ্লব তেমন একটি সরকারের রূপরেখা প্রণয়ন করেন, যা শান্তি ও ন্যায় বিচারের পথকে সুগম করতে পারত। কিন্তু, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে বঙ্গবন্ধুর হত্যার মধ্য দিয়ে জাতির এ স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে যায়।
অধ্যাপক মশিউর রহমান মূল প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু শোষিতের পক্ষে কাজ করতে চেয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন একটি শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজ, যা সংবিধানের মূলনীতিগুলোতে পরিলক্ষিত হয়। তিনি চেয়েছিলেন একটি কাঠামোগত পরিবর্তন। যেখানে তিনি পাকিস্তানি ভাবধারার সামন্তবাদের অবসান চেয়েছিলেন।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, “জনগণ বলতে বঙ্গবন্ধু সারাজীবন দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষকে বুঝিয়েছেন। এসব মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্যে তিনি সারাজীবন কাজ করে গেছেন। শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তিনি রাষ্ট্র ও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে কাজ করেছেন। তিনি ছিলেন তার নিজের সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে। মুক্তিযুদ্ধকালে যারা হত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটের সঙ্গে যুক্ত ছিলো- তাদের বাদে তিনি বাকিদের ক্ষমা করেছিলেন। সেটিকে বিকৃত করে একটি মহল কুৎসা রটাচ্ছে। অথচ এই ধারণা পশ্চিমারা 'ট্রান্সজিশনাল জাস্টিস' হিসেবে এদেশের কাছ থেকেই গ্রহণ করেছে। এটি ছিলো বঙ্গবন্ধুর ধারণা।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ফকরুল আলম সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্যে সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কাছে আমরা সকলে ঋণী।
Comment / Reply From
You May Also Like
Latest News
Vote / Poll
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

