Dark Mode
Saturday, 20 June 2026
ePaper   
Logo
ফকির আলমগীর চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন খিলগাঁও কবরস্থানে

ফকির আলমগীর চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন খিলগাঁও কবরস্থানে

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

রাজধানীর খিলগাঁও কবরস্থানে শেষ নিদ্রায় শায়িত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর। শনিবার (২৪ জুলাই) জোহরের পর খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া জামে মসজিদে (মাটির মসজিদ) দ্বিতীয় জানাজা শেষে দুপুর দুইটায় এ শিল্পীকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে সকাল ১১টা খিলগাঁওয়ের পল্লীমা সংসদ মাঠে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সেখানে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শিল্পীর মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভক্ত, সহকর্মী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ নানা শ্রেণীপেশার মানুষ। সেখানে তাকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য রাখা হয়।

শনিবার দুপুরে বহু সংগঠন ও হাজারো মানুষ শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানাতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে আসেন শহিদ মিনারে। এসময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শিল্পকলা একাডেমি, কৃষক লীগসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তারা মরদেহে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের ব্যবস্থাপনায় ছিল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।

এসময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীরের চলে যাওয়া এক কিংবদন্তির প্রস্থান। ফকির আলমগীরের মতো শিল্পী একদিনে তৈরি হয় না। বহু বছরের সাধনায় তিনি হয়ে উঠেছেন কিংবদন্তি।

এর আগে শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফকির আলমগীরের মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ফকির আলমগীর ১৯৬৬ সালে ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। রাজপথে বিভিন্ন আন্দোলনে তাকে বহুবার দেখা গেছে। তিনি ষাটের দশক থেকে গণসংগীতের সঙ্গে যুক্ত। ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী ও গণশিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেব ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে শামিল হন এ গণসংগীত শিল্পী। এরপর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে।

স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রাখেন এ শিল্পী। সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৯৯৯ সালে ফকির আলমগীরকে একুশে পদক দেয়।

জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা ফকির আলমগীর গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখিও করেন। ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান’, ‘গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান’, ‘আমার কথা’, ‘যারা আছেন হৃদয় পটে’সহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ হয়েছে তার।

Comment / Reply From

You May Also Like

Vote / Poll

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

View Results
হ্যাঁ
0%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%

Archive

Please select a date!