প্রতি ওয়ার্ডে ৩ কেন্দ্র, ৬ দিনে দেড় লাখ ভ্যাকসিন দেবে চসিক
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম নগরীতে ওয়ার্ড পর্যায়ে ছয় দিনে দেড় লাখ মানুষকে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সিটি করপোরেশন। এরপর ভ্যাকসিন পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে। ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য নগরীর ৪১ ওয়ার্ডের প্রতিটিতে তিনটি করে কেন্দ্র করা হবে। ভ্যাকসিনের জন্য সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে নাম নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই বলে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রথমবারের মতো ৭ আগস্ট থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে শুরু হতে যাওয়া করোনার ভ্যাকসিন কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিতে সোমবার (২ আগস্ট) নগরীর ৪১ ওয়ার্ড ও ১৪ সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সব কাউন্সিলর এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চসিকের স্বাস্থ্য বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী।
চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আপাতত আমরা ছয় দিনের একটি কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছি। নগরীর ৪১ ওয়ার্ডের প্রতিটিতে দৈনিক ন্যূনতম ৬০০ ডোজ করে মডার্নার ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এক লাখের বেশি প্রায় দেড় লাখের কাছাকাছি মানুষকে আমরা করোনার ভ্যাকসিন দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। প্রত্যেক ওয়ার্ডে তিনটি করে কেন্দ্র থাকবে। প্রতি কেন্দ্রে একটি করে বুথ থাকবে। প্রতিটি বুথে দুই জন প্রশিক্ষিত ভ্যাকসিনেটর ও তিন জন স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন।’
৭ আগস্ট থেকে শুরু করে ১২ আগস্ট পর্যন্ত ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রথম ধাপের ভ্যাকসিন কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন সেলিম আকতার। করোনার ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য সুরক্ষা অ্যাপসের মাধ্যমে নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক কাউন্সিলরকে পর্যাপ্তসংখ্যম ফরম দেওয়া হয়েছে। তারা স্থানীয় লোকজনকে ওই ফরমের মাধ্যমে নিবন্ধন করে ভ্যাকসিন নেওয়ার সুযোগ করে দেবেন। মেয়র মহোদয় এ কাজ সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাউন্সিলরদের তত্ত্বাবধানে করার নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রথমে জ্যৈষ্ঠ্য নাগরিকরা অগ্রাধিকার পাবেন। ১৮ বছরের বেশি যাদের বয়স তাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।’
এদিকে, সভায় মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী করোনার ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের জন্য এলাকায়-এলাকায় প্রচার জোরদার করার জন্য কাউন্সিলরদের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কাউন্সিলররা এলাকাবাসীর ভোটে নির্বাচিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। এলাকাবাসীর ভালো-মন্দ, সুবিধা-অসুবিধা তারাই ভালো বুঝবেন। এলাকাবাসীকে সেবা দেওয়ার এটা একটা বড় সুযোগ। আমি আশা করি, কাউন্সিলরদের সম্পৃক্ততায় সিটি করপোরেশন ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমে সফল হবে।’
চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আলম।
Comment / Reply From
You May Also Like
Latest News
Vote / Poll
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

