পাবনায় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো পেট শো
পাবনা প্রতিনিধি
পাবনায় সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান 'ফিরে দেখা ২৫' উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে সাতদিন ব্যাপী পেট শো ও পেট প্লে প্রদশর্নী। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শহিদ আব্দুস সাত্তার মিলনায়তনে এ প্রদর্শনী শুরু হয়।
প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক রওশন আক্তার বানুর সভাপতিত্বে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল আউয়াল মিয়া এ প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর আব্দুল খালেক। সাতদিন ব্যাপী এই প্রদর্শনী দেখতে ভীড় জমাচ্ছেন প্রাণী প্রেমি দর্শনার্থীরাও।
আয়োজকরা জানান, বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও এ আয়োজন শুরু হয়েছে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে। এর বেশ আগে থেকেই নিবন্ধনের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়। এরপর নাটোর, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জ সহ বিভিন্ন জেলার অর্ধশতাধিক পোষা প্রাণী পালক এ আয়োজনে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে নিবন্ধন করেন। নিবন্ধনের প্রায় সবগুলোই বিড়াল। অল্পকিছু বিড়াল ছাড়া নিবন্ধনকৃত প্রায় সকল বিড়ালই অংশ নিয়েছে। এ প্রাণীগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকও রাখা হয়েছে। এছাড়া সুস্বাস্থ্য, সাজানো ও মজাদার খেলা প্রদর্শণ বিবেচনায় দুইটি ক্যাটাগরিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারকারী মোট ছয়টি বিড়ালকে পুরস্কৃত করা হবে। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি এ আয়োজনের সমাপনী দিনে বিড়াল পালকদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেয়া হবে। প্রদর্শনী ও পুরস্কার প্রদান এ আয়োজনের মুখ্য বিষয় নয়। সমাজে কিছু সংখ্যক মানুষ আছে যারা আজও কুকুর ও বিড়াল সহ বিভিন্ন প্রাণীকে ইতর প্রাণী না ভেবে আদর যত্নে স্বজনের মত লালন পালন করছেন। সেটিকে অনুপ্রাণিত করতেই এ আয়োজন বলেও জানান আয়োজকরা। একই সাথে পুনর্মিলনীতে নাচ-গান, কনসার্ট ও মেলার বাইরে পোষা প্রাণী ও এর খেলা প্রদর্শনীর আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছেন দর্শনার্থী ও প্রাণী পালকরা।
পারসিয়ান জাতের দৃষ্টিনন্দন বিড়াল নিয়ে এ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন নিশা সালসাবিলা সাদিয়া। তার বিড়ালের নাম লুছি। একে লালন পালনে মাসে প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় করেন নিশা। এধরনের আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, পুনর্মিলনী বা অন্য যেকোনো অনুষ্ঠান মানেই এখন নাচ, গান-বাজনা, নামি-দামি শিল্পীদের নিয়ে কনসার্ট ও মেলা। সেখানে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এ আয়োজন একদমই ব্যতিক্রম। অতি শখ ও যত্নে আমরা বিভিন্ন প্রাণী পালন করি। কিন্তু একে সেভাবে কেউ মূল্যায়ন করে না। অনেকেই মিস-মিনিং করে ব্যাপারটিকে। এর বিপরীতে আজকের এই আয়োজনে আমি অনেকটা অনুপ্রাণিত হচ্ছি। লুছিকে নিয়ে এ আয়োজনে অংশ নিয়েছি। অনেকেই লুছি ও আমার সাথে ছবি উঠছেন। ওর বিষয়ে জানতে চাচ্ছেন। সবকিছু মিলিয়ে দারুণ উপভোগ করছি।
প্রদর্শণীতে অংশ নেয়া পিয়াস বলেন, এটি দেশী জাতের বিড়াল। এর নাম পিষু। এর আগে একটা শো-তে প্রথম পুরস্কার পায় পিষু। কিডনি জনিত সমস্যায় আমি দারুণভাবে অসুস্থ্য। তবুও নিয়ম করে ওকে মানুষের মত পরিচর্যা করি। ওর মাছ বেশি পছন্দ। তবে ভাত বা অন্যান্য খাবারও কমবেশি খায়। কিছুদিন আগে ওর ফ্লু হওয়ায় ১২০০ টাকা দামের ইঞ্জেকশন দিতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে হাজার চারেক টাকা গেছে চিকিৎসা বাবদ। হাত খরচের প্রায় সব টাকা-ই ওর পেছনে ব্যয় করি। তাছাড়া ওকে পালনে আমার আম্মু আমাকে প্রচুর সাপোর্ট করে। এতোদিন শুধু আম্মুর উৎসাহ ছিলো, এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রাণী পালনে আজ আবার নতুন করে উৎসাহ পেলাম।
প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া আরেক বিড়াল পালক তমা জানান, আমার বিড়ালের নাম সিম্বা। একবছর ধরে লালান করছি, আড়াই মাস বয়সে এনেছিলাম। এর আগে আমি এধরণের আয়োজনে অংশগ্রহণ করিনি। এখানে অংশগ্রহণ করে খুব ভালো লাগছে। অনেকেই আমাদের (বিড়াল পালক) থেকে বিড়াল পালন সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন, অনেকেই বলেও যাচ্ছেন খুব শীঘ্রই তারাও শখের প্রাণী পুষবেন। এদিক থেকে এ আয়োজন একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
এদিকে বিভিন্ন সাজে অংশ নেয়া পোষ প্রাণী দেখতে শহিদ আব্দুস সাত্তার মিলনায়তনে ভীড় জমান দর্শনার্থীরা। কেউ কেউ বিড়াল ও তার পালকের সাথে তোলেন ছবি। এসময় কথা হয় দর্শনার্থী নাবা, ফাতেমাতুজ্জোহরা ও আশিক সহ কয়েকজনের সাথে। তারা জানান, সচারচর এধরনের আয়োজন দেখা যায় না। ফেইসবুকে আয়োজন সম্পর্কে জেনে দেখতে এসেছি বিভিন্ন রকমের বিড়াল ও এর খেলা দেখানো হচ্ছে। গায়ে হাত দিয়ে ও বিড়াল কোলে নিয়ে ছবিও তুলেছি। এগুলোকে ইতর প্রাণী নয়, আপন মনে হচ্ছে। বেশ ভালো লাগছে।
প্রদর্শনীর উদ্বোধক প্রফেসর আব্দুল আউয়াল মিয়া বলেন, গতানুগতিক ধারার বাইরে প্রাণিবিদ্যা বিভাগ তাদের পুনর্মিলনী আয়োজন করেছেন। বিষয়গতভাবেই প্রাণীর সাথে এ বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একটা সম্পর্ক রয়েছে। হয়তো সেখান থেকেই তাদের এই ভাবনা ও আয়োজন। একে দারুণ ইতিবাচক বিষয় হিসেবেই দেখছি। কারণ অযত্ন অবহেলায় এসব প্রাণীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। দুএকজন যারা এদের যত্ন নিচ্ছে বা পালছেন তাদেরও কখনো অন্যভাবে দেখা হয়। কিন্তু আমার ধারণা এই আয়োজন তাদের অনুপ্রাণিত করবে। যা পরিবেশ ও প্রাণী রক্ষার জন্য একটি ইতিবাচক বিষয়। আমি আয়োজকদের বলব, এই আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন।
প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের পক্ষে সৈকত আফরোজ আসাদ ও আসলাম হোসেন বলেন, প্রাণিবিদ্যার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে প্রাক্তন ও বর্তমানদের পুনর্মিলনী উপলক্ষ্যে নানাবিধ আয়োজন রয়েছে আমাদের। আমরা লক্ষ্য করছি, সম্প্রতি আশঙ্কাজনকভাবে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটে চলেছে। এখানে কুকুর বা বিড়ালের মত বিভিন্ন প্রাণীর সংখ্যা হ্রাস নেতিবাচকভাবে ভূমিকা রাখছে। ইতর প্রাণী বলে এসব প্রাণীকে অবহেলার দৃষ্টিতে দেখা হয়, তবে কিছুসংখ্যক মানুষ এখনো এদের আপন যত্নে লালন পালন করে। তাদের অনুপ্রাণিত করতে আমাদের এই প্রদর্শনী। এছাড়া প্রাণির সাথে মানুষের সম্পর্ককে গাঢ় করার প্রয়োজন জানিয়ে পরিবেশে প্রাণীর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরাও এ আয়োজনের উদ্দেশ্যে বলেও জানান তারা।
Comment / Reply From
You May Also Like
Latest News
Vote / Poll
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

