ধনাঢ্য সাব- রেজিস্ট্রার বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সৈনিক শফিউল বারী : মার্কেন্টাইল ব্যাংকে পড়ে আছে ৫ কোটি টাকা, ব্যাপক অনিয়ম- দুর্নীতির অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
একজন সাব- রেজিস্টার এর ব্যাংক একাউন্টে পড়ে আছে পাঁচ কোটি টাকা। ব্যাংক থেকে বারবার চিঠি দিলেও যোগাযোগ করছেন না ওই সাব -রেজিস্টার কারণ টাকাটা অনিয়ম -দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অথবা এরকম টাকা তার কাছে কোন বড় ব্যাপার নয়।
এই ধনাঢ্য সাব- রেজিস্টার হচ্ছেন বহু বিতর্কিত ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা সাব- রেজিস্টার এবং বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস এসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব এস এম শফিউল বারী এবং এই টাকাটি জমা রয়েছে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মতিঝিল শাখায়। ব্যাংকে দেয়া মোবাইল নাম্বারটিও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তার স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় পত্র দিলেও তা ফেরত আসে ব্যাংকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাব -রেজিস্টার এই প্রতিনিধিকে জানান, শফিউল এর কাছে এটা কোন টাকাই না। সে এসোসিয়েশনের নেতা থাকাকালীন সময়ে বদলি বাণিজ্য করে শত কোটি টাকার বেশি কামিয়েছেন। এক্ষেত্রে তার মূল সহযোগী ছিল সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের পিএস মাসুম।
শফিউল বারী গত ৭ই মে ২০১২ ইং তারিখে সাব- রেজিস্ট্রার হিসেবে সিরাজগঞ্জের গান্দাইল সাব রেজিস্ট্রি অফিসে যোগদান করেন বলে জানা যায়।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের পিএস মাসুমের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত এই শফিউল ক্ষমতা অপব্যবহার করে ব্যবহার করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাব রেজিস্ট্র অফিসে পোস্টিং বাগিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি যখন যেখানে যোগদান করেছেন সেখানকার দুর্নীতিবাজ উমেদার পিয়ন,নকল নবীশ, দলিল লেখকদের যোগসাজশে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ।
অভিযোগ রয়েছে, নারায়নগঞ্জ আড়াই হাজার উপজেলায় এক মৌজায় নালা জমিকে পতিত জমি দেখিয়ে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
এর আগে সাব রেজিস্টার শফিউল বারীর প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক হৈচৈ পড়ে যায়। তাৎক্ষণিক অফিস সহকারী সুমিতা রানী ও রূপগঞ্জের ওমেদার জাকির হোসেনকে প্রত্যাহার করে তাদের উপর দোষ চাপিয়ে ঘটনার ধামাচাপা দেয়া হয়।
অপরদিকে, ক্ষুব্ধ হয়ে ছালেহ উদ্দিন আহমেদ নামে একব্যক্তি চলতি বছরে ২রা জুলাই শফিউল বারীর বিরুদ্ধে আইন মন্ত্রণালয়, ও আই জি আর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কিন্তুু আজ পর্যন্ত রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এই প্রতিবেদকের কাছে থাকা একটি অভিযোগে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার একটি দলিলে জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে রেজিস্ট্রি করে নং-১৪,৭৫২ দলিল, তারিখ ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ইং সম্পাদন করা হয়। এতে সরকার ৬ লাখ, ৪৬ হাজার, ৯৯০ টাকা সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে ওই অর্থ আত্মসাত করে ফেলেন এসএম শফিউল বারী।
এনিয়ে গত বছর ৯ই ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে নিউজ প্রকাশ হলেও আজ পর্যন্ত আত্মসাতেরওই টাকা জমা প্রদান করেননি মুক্তাগাছার সাব- রেজিস্ট্রার শফিউল বারী।
শফিউল বারী সিরাজগঞ্জের গান্দাইল, মুন্সিগন্জের লৌহজং, ঢাকার নবাবগঞ্জ, চট্টগ্রাম বোয়ালখালী, কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ, ঢাকার রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের খিলগাঁও এবং বর্তমান ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় কর্মরত রয়েছে।
তিনি সপ্তাহে ৩ দিন অফিস করেন। ২ টার আগে ১ দিনও অফিসে আসেন না। আবার ৫ টা আগেই চলে যান। স্টেশনে না থেকে ময়মনসিংহ শহরে একটি অভিজাত হোটেলে থেকে মদ- নারী নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
চাকরি জীবনের প্রথম থেকেই দুর্নীতিবাজ ও অসৎ এই কর্মকর্তার লন্ডনে ও কানাডায় বাড়ি, মালোশিয়া সেকেন্ড হোম, দুবাইতে ব্যবসা, ঢাকায় প্রাণকেন্দ্রে ও অভিযাত এলাকায় গুলশান, বাড্ডা, শাতারপুল, পূর্বাচলে ১৫টি প্লট উত্তরায় বাড়ি প্লট ও ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা যায়।
মূলত :জমির শ্রেণী পরিবর্তন, সরকারের অনুমতি ব্যতিরেকে সরকারি খাস জমি, দেবত্তর ও ওয়াকফ সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে বিরাট অংকের টাকা কামিয়েছেন এই শফিউল। তার আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে দুবাই ও আমেরিকা বিরাট অংকের টাকা প্রচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, শফিউল নিজেকে এখন আইন উপদেষ্টার লোক বলে পরিচয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে , শফিউলের এসব অনিয়ম - দুর্নীতি তদন্তের জন্য মানবাধিকার সংস্থা সোসাইটি ফর ইনফোর্সমেন্ট অফ বেসিক রাইটস (এস ই বি আর) প্রধান উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে শফিউলের বক্তব্য জানতে চাইলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় পরবর্তীতে তাকে মেসেজ দেয়া হলেও কিন্তু তিনি কোন জবাব দেননি।
Comment / Reply From
You May Also Like
Latest News
Vote / Poll
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

