Dark Mode
Friday, 19 June 2026
ePaper   
Logo
দোহারে শিক্ষা বানিজ্যের শিকার দুই এসএসসি পরীক্ষার্থী

দোহারে শিক্ষা বানিজ্যের শিকার দুই এসএসসি পরীক্ষার্থী

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি

শিক্ষা বানিজ্যের শিকার হয়ে মাধ্যমিক এসএসসি বোর্ড পরীক্ষায় বসতে অনিশ্চিয়তায় পরেছেন ঢাকার দোহার উপজেলার দুই পরিক্ষার্থী। পরিক্ষার্থীরা হলেন, দোহার উপজেলার চর-জয়পাড়া গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে খাদিজা আক্তার রোল-১৩৪১৮৪ রেজিষ্ট্রেশন-২১১০৮৯১২৬৩। অপর শিক্ষার্থী বিলাসপর ইউনিয়নের রামনাথপুর এলাকার আলালের মেয়ে আরিফা রোল-১৩৪১২২ রেজিষ্ট্রেশন-২১১০৮৯১৩২৫।

শিক্ষার্থী আরিফা ও খাদিজা আক্তার জানান, নবম শ্রেণী পর্যন্ত আমরা জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলাম। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের সিট খালি করানোর জন্য ঐ স্কুল কতৃপক্ষ আমাদের টিসি দিলে পাশর্^বর্তী বেগম আয়েশা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ কুলসুম বেগম আমাদের ভর্তি করেননি। এরপরে আমরা একে কিন্ডারগার্টেন এন্ড হাইস্কুলে ভর্তি হই। সেখানে লেখা পড়া করে বোর্ড নির্বাচনী পরীক্ষা দিয়ে উত্তির্ন হয়ে বোর্ড পরিক্ষা দেয়ার যোগ্যতা অর্জন করি।

কিন্তু দুঃখের বিষয় পরে জানতে পারি আমার রেজিষ্ট্রেশন হয়েছে বেগম আয়েশা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে। সোনালী ব্যাংক মারফতে রেজিষ্ট্রেশন ফি ও জমা দিয়েছি। এখন বেগম আয়েশা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে আমাদের বোর্ড পরিক্ষা দিতে দিচ্ছে না প্রতিষ্ঠান কতৃপক্ষ।অপরদিকে একে কিন্ডারগার্টেন এন্ড হাইস্কুলের সরকারি নিবন্ধন না থাকায় স্কুলের সকল পরীক্ষার্থী উপজেলার ইকরাশি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে বোর্ড পরিক্ষা দেয়ানো হয়। এখন আমরা বোর্ড পরিক্ষায় অংশ নিতে পারবো কি না এনিয়ে সংশয়ে আছি।

এবিষয়ে বেগম আয়েশা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ কুলসুম বেগমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এই দুই শিক্ষার্থী কোনদিন আমাদের প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করেনি। আমি তাদের ভর্তিও নেইনি। কোন প্রকার বেতনাদি বা ফি নেইনি। আমি তাদের চিনি না। কিভাবে আমাদের প্রতিষ্ঠানের নামে রেজিষ্ট্রেশন হয়েছে তাও আমার জানা নেই। আমি তাহলে কিভাবে তাদের আমার প্রতিষ্ঠানের নামে পরিক্ষা দিতে দেবো?

একে কিন্ডারগার্টেন এন্ড হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বানিউল হুদা জানান, আমরা যারা কিন্ডারগার্টেন স্কুল চালাই তাদের সরাসরি বোর্ডের সাথে যোগাযোগ থাকেনা। আমরা একটা মাদার স্কুলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করে থাকি। সেই সুবাদে আমরা ইকরাশি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমে বোর্ড পরিক্ষা দেওয়ানো হয়। এতে আমরা ইকরাশি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়কে শিক্ষার্থী প্রতি ফি দিতে হয়।

আমাদের প্রতিষ্ঠানের একটা ’ইওওঘ’ নাম্বারের মাধ্যমে আমাদের প্রতিষ্ঠান চালাই। আমাদের ইওওঘ নাম্বার হলো ০১৯৯২, ঊগওঝ-৪৬৯৬৩১। আমরা শিক্ষার্থী পতি ৮'শ থেকে ১ হাজার টাকা করে বেতনবাবদ নিয়ে থাকি। আর ঐ দুই শিক্ষার্থী আমাদের কাছে তথ্য গোপন করে ভর্তি হয়েছে। ওরা বেগম আয়েশা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে ট্রান্সফার সার্টিভিকেট নিয়ে বোর্ডের অনুমোদনে বালিকা পাইলট স্কুলের নামে তাদের রেজিষ্ট্রেশন হয়েছে। ঐ প্রতিষ্ঠানের আবেদনের ফলে বোর্ডের অনুমোদনে তাদের নামে রেজিষ্ট্রেশন হয়েছে। এখন তারা দুই শিক্ষার্থীকে সুযোগ করে দিলে পরিক্ষায় দিতে আর কোন বাধাঁ থাকেনা। প্রতিষ্ঠানটির স্বইচ্ছায় পারে দুই শিক্ষার্থীর পরিক্ষা দেওয়াতে।

এই বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা সমিতির সভাপতি ও ইকরাশি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. একলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঐ দুই শিক্ষার্থী যাতে পরিক্ষা দিতে পারে আমরা সে ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। আশা করি তারা পরিক্ষা দিতে পারবে।

অনিবন্ধিত স্কুলের শিক্ষার্থীরা নিবন্ধিত স্কুলের নামে পরিক্ষা দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষার প্রসার, ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার আলো ছরিয়ে দিতে বেকারত্ব দূর করার লক্ষ্যে এবং মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে স্কুল কমিটির মাধ্যমে ঐ কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থীদের আমাদের ইকরাশি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে বোর্ড পরিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদেরকে একে কিন্ডারগার্টেন এন্ড হাইস্কুল শিক্ষার্থী পতি ১ হাজার করে টাকা দেয় এককালীন।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রকিব হাসান জানান,বিদ্যালয় পরিদর্শক বরাবর আবেদন করলে বোর্ড কতৃপক্ষ অনুমোদন দেবেন বলে আশাবাদী তিনি।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.আলমগীর হোসেন জানান,বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি।শিক্ষার্থীরা আমার কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছে।তিন প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়ে বিধি মোতাবেক দুই পরীক্ষার্থীকে সুযোগদানে যথাযথ চেষ্ঠা করবো।

Comment / Reply From

You May Also Like

Vote / Poll

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

View Results
হ্যাঁ
0%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%

Archive

Please select a date!